ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রবাসীদের ওপর। বিশেষ করে দুবাই ও আবুধাবিতে বসবাসরত বিদেশি শ্রমিক ও পেশাজীবীরা এখন নিরাপত্তা ও চাকরির ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ায় অনেক প্রবাসী পরিবার তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করছে। দুবাই ও আবুধাবি দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসীদের জন্য নিরাপদ কর্মক্ষেত্র ও বসবাসের জায়গা হিসেবে পরিচিত হলেও বর্তমান পরিস্থিতি সেই আস্থাকে চ্যালেঞ্জ করছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইউএই সরকার এখনো স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম হলেও আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ায় প্রবাসীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যারা নির্মাণ, পর্যটন ও সেবা খাতে কাজ করেন, তারা যুদ্ধের প্রভাব পড়লে চাকরি হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন।
অর্থনৈতিকভাবে দুবাই ও আবুধাবি এখনো শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তবে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ধাক্কা লাগতে পারে। এতে প্রবাসীদের কর্মসংস্থান ও আয় সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রবাসীদের মধ্যে অনেকেই পরিবারকে দেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন বা পাঠানোর পরিকল্পনা করছেন। আবার কেউ কেউ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশায় অপেক্ষা করছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউএই সরকার প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুবাই ও আবুধাবি দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসীদের জন্য আকর্ষণীয় কেন্দ্র হলেও বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি তাদের স্থায়ীভাবে এখানে থাকার সিদ্ধান্তকে কঠিন করে তুলছে। ভবিষ্যতে প্রবাসীদের অবস্থান নির্ভর করবে যুদ্ধ কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং ইউএই কতটা স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারে তার ওপর।
logo-1-1740906910.png)