Logo
×

Follow Us

মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্যের সাড়ে তিন কোটি প্রবাসী অর্থনীতির শক্তি

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫

মধ্যপ্রাচ্যের সাড়ে তিন কোটি প্রবাসী অর্থনীতির শক্তি

উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) অঞ্চলে বর্তমানে প্রায় ৩৫ মিলিয়ন বিদেশি নাগরিক বসবাস করছে। এ বিশাল প্রবাসী জনসংখ্যা মূলত দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছে।  

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিসিসির ছয়টি দেশ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, ওমান এবং বাহরাইন মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় প্রবাসী কর্মসংস্থান কেন্দ্র। এখানে বিদেশি শ্রমিকরা নির্মাণ, সেবা, গৃহস্থালি কাজ, স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রযুক্তি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।  

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা থেকে আসা শ্রমিকরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। বিশেষ করে বাংলাদেশি শ্রমিকরা সৌদি আরব, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে বড় অংশ গঠন করেছে। এছাড়া ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকেও বিপুল সংখ্যক শ্রমিক এখানে কাজ করছে।  

সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারে প্রবাসীদের সংখ্যা স্থানীয় নাগরিকদের তুলনায় অনেক বেশি। উদাহরণস্বরূপ, কাতারে প্রায় ৯০ শতাংশ জনসংখ্যাই বিদেশি। অন্যদিকে সৌদি আরবে স্থানীয় নাগরিকদের সংখ্যা বেশি হলেও প্রবাসীদের উপস্থিতি অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য।  

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, জিসিসি অঞ্চলের অর্থনীতি মূলত তেল ও গ্যাস নির্ভর হলেও প্রবাসী শ্রমিকদের অবদান ছাড়া শিল্প, অবকাঠামো ও সেবা খাত সচল রাখা সম্ভব নয়। প্রবাসীরা শুধু শ্রমশক্তি নয়, তারা দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ার অন্যতম চালিকাশক্তি।  

তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক অস্থিরতা প্রবাসীদের জীবন ও কর্মসংস্থানে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। অনেক দেশ ইতোমধ্যে প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে।  

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জিসিসি অঞ্চলে প্রবাসীদের উপস্থিতি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও শ্রমনীতি কেমন থাকে তার ওপর নির্ভর করবে প্রবাসীদের অবস্থান।

৩৫ মিলিয়ন বিদেশি নাগরিকের এই বৈচিত্র্যময় জনসংখ্যা উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনীতি ও সমাজকে বহুমাত্রিক রূপ দিয়েছে। দক্ষিণ এশীয় শ্রমিকদের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যা বাংলাদেশসহ পুরো অঞ্চলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সংযোগ তৈরি করেছে।

Logo