Logo
×

Follow Us

মধ্যপ্রাচ্য

পানির প্ল্যান্ট ধ্বংস হলে কী হবে মধ্যপ্রাচ্যে?

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৭

পানির প্ল্যান্ট ধ্বংস হলে কী হবে মধ্যপ্রাচ্যে?

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি হামলায় এবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে পানির নিরাপত্তা। বাহরাইন জানিয়েছে, ইরানি ড্রোন হামলায় তাদের একটি পানি শোধনাগার (ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে ৩০টি গ্রামের পানির সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এটি প্রথমবারের মতো কোনো উপসাগরীয় দেশ প্রকাশ্যে জানিয়েছে যে তাদের পানি শোধনাগারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।  

সংবাদ সংস্থা আলজাজিরা বলছে, ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট মূলত সমুদ্রের লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধ করে পানযোগ্য পানি তৈরি করে। উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক মিঠা পানির উৎস অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় এসব প্ল্যান্টই প্রধান ভরসা। বর্তমানে উপসাগরীয় দেশগুলোতে ৪০০-র বেশি ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট রয়েছে, যা বিশ্বের মোট উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশ সরবরাহ করে। কুয়েতের ৯০ শতাংশ, ওমানের ৮৬ শতাংশ, সৌদি আরবের ৭০ শতাংশ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৪২ শতাংশ পানীয় জল আসে এসব প্ল্যান্ট থেকে।  

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব স্থাপনায় হামলা হলে শুধু পানির সরবরাহই নয়, খাদ্য উৎপাদন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাও হুমকির মুখে পড়বে। কারণ, পানির সংকট সরাসরি কৃষি ও শিল্পে প্রভাব ফেলবে। ১৯৯০-৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধে ইরাকি বাহিনী কুয়েতের বেশির ভাগ ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট ধ্বংস করেছিল, যার ফলে দেশটি ভয়াবহ পানির সংকটে পড়ে।  

গালফ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভূগর্ভস্থ পানির উৎসও ক্রমেই কমে আসছে। ফলে উপসাগরীয় দেশগুলো আরো বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে সমুদ্রের পানি শোধনের ওপর। এ কারণে এসব স্থাপনায় হামলা মানবিক সংকট তৈরি করতে পারে।  

পরিবেশ গবেষক নাসের আলসায়েদ বলেন, “ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট শুধু পানির উৎস নয়, বরং উপসাগরীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তি। এগুলোতে হামলা হলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন বড় ঝুঁকিতে পড়বে।”  

তবে বড় দেশগুলো যেমন সৌদি আরব কিছুটা স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারে, কারণ তাদের বিকল্প উৎস ও রিজার্ভ রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতও ৪৫ দিনের পানির মজুত রেখেছে। কিন্তু ছোট দেশগুলো কাতার, কুয়েত ও বাহরাইন; যারা প্রায় পুরোপুরি ডেসালিনেশনের ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে।  

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, উপসাগরীয় দেশগুলোকে যৌথভাবে পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। একীভূত ডেসালিনেশন গ্রিড, আঞ্চলিক পানি রিজার্ভ এবং নবায়নযোগ্য শক্তি চালিত ছোট ছোট প্ল্যান্ট গড়ে তোলা জরুরি। কারণ, নিকট ভবিষ্যতে ডেসালিনেশনের বিকল্প কোনো প্রযুক্তি নেই।

Logo