মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরব ইরানকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিলেও সৌদি ভূখণ্ড বা জ্বালানি স্থাপনায় হামলা অব্যাহত থাকলে পাল্টা প্রতিশোধ নিতে বাধ্য হবে। বিষয়টি চারজন কূটনৈতিক সূত্র রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং বলেন, ইরানের অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে ইরানের ওপর হামলা না হলে তারা আর আক্রমণ চালাবে না। তবে একই দিন সৌদি আরবের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয় যে, হামলা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রকে সৌদি ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে এবং জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত এলে পাল্টা প্রতিশোধ নেওয়া হবে।
এর আগে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, সৌদি আরব আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমাতে আগ্রহী এবং কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য সৌদি ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেয়নি। তবে হামলা চলতে থাকলে পরিস্থিতি বদলাবে।
গত সপ্তাহে ইরান একাধিকবার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলোতে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন এবং সৌদি আরব এসব হামলার শিকার হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তেহরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাল্টা হামলা শুরু করে।
আরাঘচি ৭ মার্চ এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং সৌদি আরব আশ্বস্ত করেছে যে তাদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হবে না। তবে একই সময়ে ইরানের সামরিক কমান্ড ঘোষণা দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ঘাঁটি ও সম্পদই তাদের প্রধান লক্ষ্য থাকবে এবং সেগুলোতে “শক্তিশালী ও ভয়াবহ” হামলা চালানো হবে।
logo-1-1740906910.png)