ইরানের বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের হামলার খবর পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইসরায়েল ইরানে হামলা আরো তীব্র করেছে।
রাজধানী তেহরানের মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বড় হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে খবর এসেছে। এদিকে ইরানের নৌবাহিনী দাবি করেছে, পারস্য উপসাগরে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহর ‘আব্রাহাম লিংকন’কে লক্ষ্য করে তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এমন হামলার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তারা ইরানে প্রায় ৬ হাজার ৫০০ বোমা নিক্ষেপ করেছে। এর বেশির ভাগ হামলা হয়েছে তেহরানে। এসব হামলায় ১ হাজার ৩৩২ জন নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বিপরীতে ইসরায়েলের গণমাধ্যম জানিয়েছে, ৬ মার্চ রাতে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ইরান একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। তবে এসব হামলায় ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের শুরুতে আঘাত সহ্য করে টিকে থাকার কৌশল নিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে বড় ধরনের পাল্টা আঘাতের সুযোগ খুঁজছে দেশটি। যুদ্ধকে বিস্তৃত করতে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেলের ভান্ডার, পর্যটন কেন্দ্র কিংবা গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে ইরান।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, তেলের ভান্ডারের পাশাপাশি যদি উপসাগরীয় দেশগুলোর খাবার পানির শোধনাগারে হামলা হয়, তবে ওই অঞ্চলে ভয়াবহ মানবিক সংকট দেখা দিতে পারে।
এ অবস্থায় সম্ভাব্য বড় বিপর্যয় ঠেকাতে কিছু দেশ ইরানকে যুদ্ধবিরতিতে আনতে কূটনৈতিক চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, ইরানের আত্মসমর্পণ ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প তিনি বিবেচনা করছেন না। একই সঙ্গে ইরানের ভেতরে স্থলযুদ্ধ শুরুর ইঙ্গিতও দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। তিনি বলেছেন, ইরানের মাটিতে যদি যুক্তরাষ্ট্র স্থলযুদ্ধ শুরু করে, তবে তা মোকাবিলার জন্য ইরানের সেনারা প্রস্তুত রয়েছে। নিজ ভূমিতে মার্কিন সেনাদের জন্যই অপেক্ষা করছে ইরানিরা।
logo-1-1740906910.png)