আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকুন: কুয়েত প্রবাসীদের রাষ্ট্রদূত
প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৬, ১০:৪৫
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে কুয়েতসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে ড্রোন ও মিসাইল আক্রমণের প্রেক্ষাপটে সাইরেন ও সতর্কবার্তা বাজলেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের ধৈর্য ও সাহস নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছেন কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন। সম্প্রতি দূতাবাসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি প্রবাসীদের প্রতি এই আহ্বান জানান এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রদূত জানান, প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণে কুয়েত সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীগণ কুয়েত দূতাবাসের সাথে নিয়মিত সমন্বয় করছেন। বিশেষ করে, গত ২ মার্চ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে টেলিফোনে আলাপকালে কুয়েতের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের ঘটনায় নিন্দা জানান এবং এই কঠিন সময়ে কুয়েত সরকার ও জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। কুয়েত সরকার প্রবাসীদের নিরাপত্তায় যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, তাকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রদূত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
জরুরি প্রয়োজনে সহায়তার জন্য কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস তিনটি ২৪ ঘণ্টা কার্যকর হটলাইন নম্বর এবং একটি ইমেইল অ্যাড্রেস চালু করেছে। পাশাপাশি নিয়মিত কনসুলার সেবাও অব্যাহত রয়েছে। যারা ফ্লাইট জটিলতায় কুয়েতে আটকা পড়েছেন, তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স ও দূতাবাসের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। রাষ্ট্রদূত প্রবাসীদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়ে বলেন, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে এবং সামরিক স্থাপনা থেকে দূরে থাকতে হবে। পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে নগদ অর্থ, সিভিল আইডি, হেলথ কার্ড এবং চার্জসহ মোবাইল ফোন ও পাওয়ার ব্যাংক সব সময় সাথে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রদূত প্রবাসীদের যে কোনো প্রকার গুজব বা যাচাইবিহীন তথ্যে কান না দিয়ে কুয়েত সরকারের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা ও দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের তথ্যের ওপর আস্থা রাখতে অনুরোধ করেন। তিনি বিশেষভাবে মনে করিয়ে দেন যে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দৃশ্য বা যুদ্ধ সংক্রান্ত কোনো ছবি ও ভিডিও ধারণ এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার বা লাইভ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কুয়েতের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে বাংলাদেশের মর্যাদা রক্ষায় একে অপরকে সহযোগিতা করার মাধ্যমে শান্ত থাকার জন্য তিনি সবার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
logo-1-1740906910.png)
