মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ ইরানের সঙ্গে সংঘাতকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। দুবাই ও আবুধাবি বিমানবন্দর থেকে ছাড়তে থাকা প্রতিটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটকে এখন সংযুক্ত আরব আমিরাতের যুদ্ধবিমান পাহারা দিচ্ছে। হাজারো যাত্রীকে নিরাপদে দেশে ফেরাতে এবং বৈশ্বিক পরিবহন কেন্দ্র হিসেবে সুনাম বজায় রাখতে আমিরাত সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। এ নিয়ে একটি বিশ্লেষণী কলাম প্রকাশ করেছে অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্ট কর্পোরেশন (এবিসি নিউজ)।
এ কলামে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে গোপন সমঝোতায় দক্ষিণমুখী নিরাপদ আকাশপথ তৈরি করে বিমান চলাচল সচল রাখছে আমিরাত। তবে এর খরচ বিপুল। গত সপ্তাহে ইসরায়েল থেকে ছোড়া এক হাজারের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে হয়েছে। তুলনামূলক সস্তা ড্রোন দিয়ে ইরান চাপ বাড়াচ্ছে আর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় গালফ দেশগুলোকে ব্যয় করতে হচ্ছে কোটি কোটি ডলার।
আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল আব্দুর নায়সাল আল হুমাইদি জানিয়েছেন, দেশটির উন্নত প্রতিরক্ষা শিল্প ও সামরিক সক্ষমতা রয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে পর্যাপ্ত অস্ত্র মজুত রাখা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা থাকলেও রাশিয়া, চীনসহ বিভিন্ন দেশের অস্ত্র ব্যবস্থাও ব্যবহার করছে গালফ রাষ্ট্রগুলো। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, কাতার ও আমিরাতের সঙ্গে সস্তা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, আমিরাত ইরানের সম্পদ ফ্রিজ করার কথা বিবেচনা করছে। এতে তেহরানের বৈদেশিক মুদ্রা ও বৈশ্বিক বাণিজ্য নেটওয়ার্কে বড় ধাক্কা আসতে পারে। অন্যদিকে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, সৌদি আরব, আমিরাত, কুয়েত ও কাতার তাদের বিদেশি বিনিয়োগ কমানোর কথা ভাবছে যুদ্ধ ব্যয়ের চাপ সামলাতে।
তেলবাজার আপাতত স্থিতিশীল থাকলেও গালফ রাষ্ট্রগুলোর বাজেট সংকটে পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই যুদ্ধ শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির ভারসাম্যও বদলে দিচ্ছে।
ওয়াশিংটনের ভাষ্য এখন মূলত ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়েছে, যা ইসরায়েলের জন্য স্বস্তির বার্তা। তবে গালফে বাস্তবতা ভিন্ন। এখানে নতুন করে জোট, উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ সরে যাবে আর তার রেখে যাওয়া বিশৃঙ্খলা সামলাতে হবে উপসাগরীয় দেশগুলোকে।
logo-1-1740906910.png)