আঞ্চলিক উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার মাঝে দেশের অভ্যন্তরে খাদ্য নিরাপত্তা সুসংহত করতে সব ধরনের খাদ্যপণ্য রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে কুয়েত সরকার। ৪ মার্চ ২০২৬ কুয়েতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক বিশেষ ডিক্রি (২০/২০২৬) জারির পর দেশটির কাস্টমস বিভাগ এই জরুরি নির্দেশনা কার্যকর করেছে। আরব টাইমসের প্রতিবেদন বলছে, এর ফলে কুয়েতের কোনো বন্দর দিয়ে বাণিজ্যিক বা ব্যক্তিগতভাবে কোনো খাদ্যদ্রব্য দেশের বাইরে পাঠানো যাবে না।
কুয়েত কাস্টমস প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় বাজারে খাদ্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কাস্টমসের সকল বিভাগকে এই আদেশ কঠোরভাবে পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং যে কোনো ধরনের আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে অনেক দেশই তাদের খাদ্য মজুতের ওপর বিশেষ নজর দিচ্ছে, যার অংশ হিসেবে কুয়েত এই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করল।
খাদ্য রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি কুয়েতের সকল বন্দরে নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত নজরদারি বহু গুণ বাড়ানো হয়েছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, দেশের প্রতিটি বন্দরে ‘রেডিয়েশন মনিটরিং সিস্টেম’ বা বিকিরণ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করছে। এখন পর্যন্ত কোনো অস্বাভাবিক রেডিয়েশন বা তেজস্ক্রিয়তা শনাক্ত হয়নি এবং সকল রিডিং নিরাপদ সীমার মধ্যে রয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উচ্চমানের কারিগরি মানদণ্ড অনুসরণ করে প্রতিটি পণ্য পরিদর্শন করা হচ্ছে।
জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা দেশের নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সকল সিদ্ধান্ত অত্যন্ত পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সাথে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নাগরিকদের আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ সরকার দেশে প্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত বজায় রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে।
logo-1-1740906910.png)