Logo
×

Follow Us

মধ্যপ্রাচ্য

ইরানের সস্তা ড্রোনে বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের মানচিত্র

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২৬, ১১:৩২

ইরানের সস্তা ড্রোনে বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের মানচিত্র

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ড্রোন। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এগুলো এতটাই সস্তা ও সহজে উৎপাদনযোগ্য যে একে-৪৭ রাইফেলের মতোই যুদ্ধক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটাচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করাকে যুদ্ধের মূল লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করেছেন। কিন্তু ওয়াশিংটন যখন দীর্ঘপাল্লার রকেট ও লঞ্চারের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে, তখন তেহরান মাঠে নামিয়েছে আরো সস্তা অথচ কার্যকর অস্ত্র ড্রোন।

সামরিক পরিভাষায় এগুলোকে বলা হয় Unmanned Aerial Vehicles (UAVs)। গত কয়েক দিনে ইরান প্রায় দুই হাজার একমুখী আক্রমণাত্মক ড্রোন ছুড়েছে বলে নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি সৌদি আরবের রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে আঘাত হেনেছে। কুয়েতে এক হামলায় অন্তত ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া বন্দর, তেল স্থাপনা, হোটেল ও কূটনৈতিক কার্যালয়ও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

ড্রোন হামলার কারণে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চাপে পড়েছে। একসঙ্গে বহু ড্রোন আকাশে উড়ে আসায় প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষে সবগুলোকে প্রতিহত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রের পরিধি আরো বিস্তৃত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত এক দশকে ড্রোন যুদ্ধ আধুনিক সামরিক কৌশলে বড় পরিবর্তন এনেছে। ইউক্রেন থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত দেখা গেছে, ব্যয়বহুল অস্ত্রের চেয়ে সস্তা ড্রোনই অনেক সময় বেশি কার্যকর প্রমাণিত হচ্ছে। বিশেষ করে “সুইসাইড” বা “লোইটারিং” ড্রোনগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগে আকাশে ঘুরে বেড়াতে পারে, যা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করে।

ইরানের তৈরি শাহেদ সিরিজের ড্রোন ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে আলোচিত। রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে এসব ড্রোন ব্যবহার করেছে। এখন মধ্যপ্রাচ্যে একই ধরনের ড্রোন হামলা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ড্রোন হামলা শুধু সামরিক ঘাঁটি নয়, বেসামরিক অবকাঠামোকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে। তেল স্থাপনা, বন্দর ও হোটেল লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে।

Logo