মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে মার্কিন নাগরিকদের জরুরি নির্দেশ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৬, ১১:০৪
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সরাসরি সামরিক সংঘাত এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করায় ১২টিরও বেশি দেশ থেকে নিজেদের নাগরিকদের অবিলম্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ওয়াশিংটন। ৩ মার্চ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এই 'ডিপার্ট নাও' বা 'এখনই ত্যাগ করুন' সতর্কতা জারি করেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের মৃত্যুর পর তেহরান যখন উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তেই এই জরুরি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা এলো।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) নিশ্চিত করেছে, ইরানের সাম্প্রতিক পাল্টা হামলায় অন্তত ৬ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত আমেরিকানদের ওপর নিরাপত্তা ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। এই সতর্কবার্তার আওতায় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার, কুয়েত, ওমান, জর্ডান এবং ইরাকের মতো দেশগুলো রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ওই অঞ্চলের আকাশসীমা যে কোনো সময় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং বাণিজ্যিক ফ্লাইটের প্রাপ্যতা কমে যাওয়ায় নাগরিকদের আর দেরি না করে দ্রুত বাণিজ্যিক মাধ্যম ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট দেশ ত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া ভাষণে বলেন, "অঞ্চলটিতে বর্তমানে আমেরিকানদের জন্য গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং যে কোনো সময় এটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।" এই ঘোষণার পর মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে মার্কিন নাগরিকদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অনেক দেশ তাদের বিমানবন্দর আংশিক বন্ধ রাখলেও মার্কিন নাগরিকদের জন্য বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটের ব্যবস্থা করার কথা ভাবছে ওয়াশিংটন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার হত্যাকাণ্ডের পর তেহরান যেভাবে পাল্টা আঘাত হানছে, তাতে এই সংঘাত কেবল ইরান বা ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে গ্রাস করছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই গণ-সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ ইঙ্গিত দিচ্ছে, আগামী দিনগুলোতে সংঘাত আরো বড় আকার ধারণ করতে পারে। আমেরিকান নাগরিকদের পাশাপাশি ব্রিটেন এবং ইউরোপীয় দেশগুলোও তাদের নাগরিকদের জন্য একই ধরনের সতর্কতা জারি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত প্রবাসীদের জন্য এটি একটি চরম অনিশ্চয়তার সময়, যেখানে জীবন বাঁচানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
logo-1-1740906910.png)