মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও আঞ্চলিক আকাশসীমা বন্ধ থাকার কারণে আটটি আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক গন্তব্যে তাদের ফ্লাইট বাতিলের সময়সীমা আরো বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরবের জাতীয় বিমান সংস্থা 'সৌদিয়া'। ২ মার্চ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এয়ারলাইন্সটি জানিয়েছে, আম্মান, কুয়েত, দুবাই, আবুধাবি, দোহা, বাহরাইন, মস্কো এবং পেশোয়ার রুটে ৪ মার্চ ২০২৬ তারিখের গ্রিনিচ মান সময় ২৩:৫৯ পর্যন্ত কোনো ফ্লাইট চলাচল করবে না। সংবাদমাধ্যম সৌদি গেজেট বলছে, এর আগে এই স্থগিতাদেশ ২ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর ছিল, তবে উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনা করে নিরাপত্তার স্বার্থে এই সময়সীমা আরো দুই দিন বাড়ানো হয়েছে।
সৌদিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাতিল হওয়া ফ্লাইটের যাত্রীদের সরাসরি খুদে বার্তা বা ইমেইলের মাধ্যমে অবহিত করা হচ্ছে। যেসব যাত্রী ইতোমধ্যে টিকিট বুক করেছেন, তাদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, যাত্রী এবং ক্রু মেম্বারদের নিরাপত্তাই এয়ারলাইন্সের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় সৃষ্ট সামরিক অস্থিরতা এবং ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সৌদিয়া তাদের গ্রাহকদের যে কোনো জিজ্ঞাসার জন্য কল সেন্টার অথবা অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ব্যবহার করার অনুরোধ জানিয়েছে।
এদিকে আঞ্চলিক এই সংকটের কারণে কেবল সৌদিয়াই নয়, এমিরেটস, কাতার এয়ারওয়েজ এবং ফ্লাইদুবাইয়ের মতো বড় বড় এয়ারলাইন্সগুলোও তাদের সিডিউল ও রুট পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। অনেক এয়ারলাইন্স তাদের যাত্রীদের টিকিটের টাকা ফেরত বা বিনা খরচে পুনরায় বুকিং দেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে। দুবাই ও দোহা থেকে পরিচালিত ট্রানজিট ফ্লাইটগুলো এখন তুরস্ক বা মিসরের বিকল্প আকাশপথ ব্যবহার করছে, যার ফলে গন্তব্যে পৌঁছাতে স্বাভাবিকের চেয়ে দুই থেকে তিন ঘণ্টা বেশি সময় লাগছে। তবে জেদ্দা ও রিয়াদের বিমানবন্দরগুলো এখনো আংশিকভাবে সচল রয়েছে বলে জানা গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত এবং ওই অঞ্চলে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা হাজার হাজার প্রবাসী ও পর্যটক এই দীর্ঘায়িত ফ্লাইট বাতিলের কারণে বিপাকে পড়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আকাশসীমা খোলার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে মনে করছেন এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা। সৌদিয়া জানিয়েছে, পরিস্থিতির ওপর তারা গভীর নজর রাখছে এবং পরিস্থিতি উন্নত হলে পুনরায় ফ্লাইট চালুর বিষয়ে পরবর্তী আপডেট প্রদান করা হবে। যারা সরাসরি সৌদিয়া থেকে টিকিট কিনেছেন তারা সরাসরি এয়ারলাইন্সের সঙ্গে এবং যারা এজেন্সির মাধ্যমে কিনেছেন তাদের সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
logo-1-1740906910.png)