আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা ও আকাশসীমা বন্ধ থাকার কারণে তিন দিন স্থবির থাকার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধান বিমান সংস্থাগুলো পুনরায় সীমিত পরিসরে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। ২ মার্চ সন্ধ্যা থেকে এমিরেটস, ইতিহাদ এবং ফ্লাইদুবাই তাদের নির্ধারিত কিছু রুটে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছে। ইরান এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সামরিক সংঘাতের জেরে গত তিন দিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ কার্যত বন্ধ ছিল। তবে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় এবং যাত্রীদের চরম ভোগান্তির কথা চিন্তা করে বিশেষ সতর্কতার সাথে এই সীমিত ফ্লাইট চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় চরম অস্থিরতা তৈরি হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, সৌদি আরব, ইরাক, জর্ডানসহ বেশ কিছু দেশ তাদের আকাশপথ আংশিক বা পূর্ণাঙ্গভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। এর ফলে দুবাই ও দোহার মতো বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এভিয়েশন হাবগুলো অচল হয়ে পড়ে এবং বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার যাত্রী আটকা পড়েন। সোমবার সন্ধ্যা থেকে দুবাইভিত্তিক এমিরেটস এবং ফ্লাইদুবাই এবং আবুধাবি ভিত্তিক ইতিহাদ এয়ারওয়েজ তাদের স্থগিত থাকা সেবাগুলো ধীরে ধীরে পুনরায় চালু করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফ্লাইট চলাচল শুরু হলেও এখনই পূর্ণাঙ্গ সিডিউলে ফেরা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে গন্তব্যে পৌঁছাতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে। কারণ বিমানগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে দীর্ঘ পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং আল মাকতুম বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গন্তব্যে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতির যেরকোনো সময় পরিবর্তন হতে পারে বলে সতর্ক করেছে এয়ারলাইন্সগুলো। তারা যাত্রীদের অনুরোধ করেছে, যেন তারা বিমানবন্দরে আসার আগে অবশ্যই তাদের ফ্লাইটের বর্তমান অবস্থা অনলাইনে যাচাই করে নেন অথবা সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের কল সেন্টারে যোগাযোগ করেন।
প্রতিদিন লাখ লাখ যাত্রী এই রুট ব্যবহার করে এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার মধ্যে যাতায়াত করেন। দীর্ঘ তিন দিনের অচলাবস্থার পর ফ্লাইট চালু হওয়াতে প্রবাসীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও আকাশপথের স্থায়ী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এখনো কাটেনি। আমিরাত সরকার জানিয়েছে, তারা নিয়মিতভাবে আঞ্চলিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তায় কোনো ধরনের ঝুঁকি দেখা দিলে পুনরায় ফ্লাইট স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
logo-1-1740906910.png)