Logo
×

Follow Us

মধ্যপ্রাচ্য

সব দোষ ইরানের: জিসিসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬, ১০:৩৬

সব দোষ ইরানের: জিসিসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ইরানের সাম্প্রতিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)। রোববার বাহরাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ৫০তম বিশেষ জরুরি বৈঠকে জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা একমত হয়েছেন যে, যে কোনো বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সদস্য দেশগুলোর আত্মরক্ষার পূর্ণ আইনি অধিকার রয়েছে। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আয়োজিত এই বৈঠকে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, ওমান, কাতার এবং কুয়েতের ওপর চালানো ইরানি হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। জিসিসি নেতারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, কোনো একটি সদস্য রাষ্ট্রের ওপর হামলা মানেই তা পুরো পরিষদের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হবে।

বৈঠক শেষে জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরানের এই সামরিক তৎপরতা আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘের সনদ এবং প্রতিবেশীসুলভ আচরণের নগ্ন লঙ্ঘন। বিশেষ করে বেসামরিক স্থাপনা ও জনবসতিপূর্ণ এলাকা লক্ষ্য করে হামলা চালানোকে একটি ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। জিসিসি সনদের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী, সদস্য দেশগুলো এখন সম্মিলিতভাবে নিজেদের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা রক্ষায় যেকোনো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। জাতিসংঘের সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আত্মরক্ষার যে অধিকার রয়েছে, তা প্রয়োগের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।

জিসিসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা উল্লেখ করেছেন যে, এই উত্তেজনা এড়াতে তারা শুরু থেকেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন এবং বারবার নিশ্চিত করেছেন যে তাদের ভূখণ্ড ইরানের ওপর হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। তা সত্ত্বেও ইরান বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রেখেছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিবৃতিতে অবিলম্বে এই হামলা বন্ধের দাবি জানিয়ে বলা হয়েছে যে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতা কেবল আঞ্চলিক বিষয় নয়, বরং এটি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের নিরাপত্তার জন্য একটি অপরিহার্য ভিত্তি। সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে এবং বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই সংঘাত থামানো জরুরি।

বৈঠক থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে, যেন তারা এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেয়। বিশেষ করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে তাদের দায়িত্ব পালন করার এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। জিসিসি দেশগুলো স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা তাদের নাগরিক ও বাসিন্দাদের জানমাল রক্ষায় যে কোনো পাল্টা জবাব দেওয়ার বিকল্প হাতে রেখেছে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তির স্বার্থে ইরানকে এই উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার হুঁশিয়ারি দিয়ে বৈঠকটি শেষ হয়।

Logo