সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাবলিক প্রসিকিউশন সাধারণ নাগরিক ও প্রবাসীদের জন্য একটি জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছে, যেখানে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে কোনো ধরনের গুজব বা ভিত্তিহীন তথ্য শেয়ার করা এখন থেকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে আমিরাত সরকার। কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে দিয়ে বলেছে যে, কোনো তথ্যের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে তা পুনরায় পোস্ট বা শেয়ার করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা এবং প্রসিকিউশনের মুখোমুখি হতে হবে। এমনকি যদি ওই ব্যক্তি নিজে সেই সংবাদের মূল লেখক বা নির্মাতা নাও হন, কেবল শেয়ার করার অপরাধেই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
আমিরাতের পাবলিক প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে জানানো হয়েছে যে, বর্তমান ডিজিটাল যুগে তথ্যের প্রবাহ অত্যন্ত দ্রুত এবং অনির্ভরযোগ্য উৎস থেকে আসা সংবাদ জনমনে বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক ছড়াতে পারে। এতে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার) বা হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্মে কোনো সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে যাচাই না করে তথ্য ছড়ানোকে অপরাধ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আমিরাত সরকার মনে করে, বর্তমান সংকটের সময়ে ভুল তথ্য ছড়ানো কেবল ব্যক্তিগত ভুল নয়, বরং এটি একটি সামাজিক অপরাধ, যা দেশের আইন ও শৃঙ্খলার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সরকারি এই সতর্কবার্তায় জনসাধারণকে কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা কেবল সরকারি এবং স্বীকৃত সংবাদ মাধ্যমগুলোর দেওয়া তথ্যের ওপর আস্থা রাখেন। যে কোনো খবরের সত্যতা যাচাই না করে তা অন্যের কাছে শেয়ার করা বা পুনরায় পোস্ট করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে বলা হয়েছে। দেশটির প্রচলিত আইন অনুযায়ী, যারা ইন্টারনেটের মাধ্যমে গুজব ছড়াবে তাদের জন্য বড় অংকের জরিমানা এবং কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, 'তথ্য একটি দায়িত্ব' এবং 'গুজব ছড়ানো একটি অপরাধ'। সুতরাং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতিটি পোস্ট বা শেয়ারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই কঠোর অবস্থান মূলত সাইবার অপরাধ দমন এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার একটি অংশ। বর্তমানে অনেকে না বুঝেই বিভিন্ন ভুয়া খবর শেয়ার করে ফেলেন, যা পরবর্তী সময়ে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার জন্ম দেয়। তাই এই আইন ও সতর্কবার্তা সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করতে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। নাগরিক ও প্রবাসীদের প্রতি পুনরায় অনুরোধ জানানো হয়েছে, যেন তারা কোনো অসাধু মহলের ছড়ানো গুজবে কান না দেন এবং সর্বদা দেশের সরকারি চ্যানেলের মাধ্যমে আসা তথ্যের দিকে নজর রাখেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে, অনলাইনে যে কোনো আপত্তিকর বা বিভ্রান্তিকর কার্যক্রম শনাক্ত করতে সাইবার নিরাপত্তা বিভাগ সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।
logo-1-1740906910.png)