Logo
×

Follow Us

মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্যের কোন দেশে কত মার্কিন সেনা?

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪৯

মধ্যপ্রাচ্যের কোন দেশে কত মার্কিন সেনা?

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র হামলার হুমকি জোরদার করেছে, অন্যদিকে ইরান ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো সতর্ক করেছে যদি হামলা হয়, মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। এই প্রেক্ষাপটে আবারো আলোচনায় এসেছে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কতটা শক্তিশালী।  

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে অন্তত ১৯টি সামরিক স্থাপনা রয়েছে, যার মধ্যে ৮টি স্থায়ী ঘাঁটি। বাহরাইন, মিসর, ইরাক, ইসরায়েল, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়া, ওমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন সেনা মোতায়েন আছে। এছাড়া তুরস্ক ও জিবুতির বড় ঘাঁটি থেকেও মধ্যপ্রাচ্য-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়।  

সবচেয়ে বড় উপস্থিতি বাহরাইন ও কাতারে। বাহরাইনে প্রায় ৯ হাজার সেনা রয়েছে, এখানেই যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর। কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ঘাঁটি, যেখানে প্রায় ১০ হাজার সেনা অবস্থান করছে। এটি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কৌশলগত সদর দপ্তর হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।  

কুয়েতে প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ সেনা রয়েছে। ক্যাম্প আরিফজান, আলী আল-সালেম বিমানঘাঁটি ও ক্যাম্প বুরিং; এই তিনটি ঘাঁটি লজিস্টিকস ও প্রশিক্ষণের মূল কেন্দ্র। সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ সেনা মোতায়েন আছে, তারা আল দাফরা বিমানঘাঁটি ব্যবহার করে। সৌদি আরবে প্রায় ২ হাজার ৭০০ সেনা রয়েছে, রিয়াদের কাছে প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রের বড় ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।  

ইরাকে প্রায় ২ হাজার ৫০০, সিরিয়ায় ২ হাজার এবং জর্ডানে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ সেনা রয়েছে। জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটি লেভান্ত অঞ্চলে মার্কিন অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তুরস্কের ইনসিরলিক বিমানঘাঁটিতেও মার্কিন সেনা রয়েছে, যেখানে পারমাণবিক অস্ত্র থাকার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।  

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৪০ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে নৌ ও আকাশশক্তি মোতায়েন করেছে। পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ইরান থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরে আরব সাগরে অবস্থান করছে। এর সঙ্গে রয়েছে ক্ষেপণাস্ত্রবাহী যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান। বিশ্বের সবচেয়ে বড় যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ডও ওই অঞ্চলের দিকে যাচ্ছে। এছাড়া নজরদারি বিমান ও আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানও পাঠানো হয়েছে।  

তবে মার্কিন ঘাঁটি ব্যবহার নিয়ে দ্বিধা রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না। কাতার, ওমান ও তুরস্কও যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে, ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী ও ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়ারা সতর্ক করেছে হামলা হলে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।

Logo