Logo
×

Follow Us

মধ্যপ্রাচ্য

ইসরায়েল পুরো মধ্যপ্রাচ্য দখল করলেও আপত্তি নেই যুক্তরাষ্ট্রের

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪৮

ইসরায়েল পুরো মধ্যপ্রাচ্য দখল করলেও আপত্তি নেই যুক্তরাষ্ট্রের

ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি বলেছেন, ইসরায়েল যদি পুরো মধ্যপ্রাচ্য দখল করে নেয়, তবে তাতে তার কোনো আপত্তি নেই। ২০ ফেব্রুয়ারি রক্ষণশীল ভাষ্যকার টাকার কার্লসনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। খবর জানিয়েছে আল জাজিরা।  

সাক্ষাৎকারে বাইবেলের প্রসঙ্গ টেনে কার্লসন জানতে চান, ইউফ্রেটিস নদী থেকে মিসরের নীল নদ পর্যন্ত অঞ্চল আব্রাহামের উত্তরসূরিদের জন্য প্রতিশ্রুত বলে উল্লেখ আছে। এতে লেবানন, সিরিয়া, জর্ডান ও সৌদি আরবের কিছু অংশ অন্তর্ভুক্ত। জবাবে হাকাবি বলেন, “তারা যদি এর পুরোটাই দখল করে নেয়, তবে তা ঠিক আছে।”  

পরে তিনি নিজের বক্তব্যকে ‘অত্যুক্তি’ বলে ব্যাখ্যা করেন। তবে ধর্মীয় ব্যাখ্যার ভিত্তিতে ইসরায়েলি সম্প্রসারণবাদের পথ খোলা রেখে বলেন, “যদি সব জায়গা থেকে তাদের ওপর আক্রমণ হয় এবং তারা সেই যুদ্ধে জয়ী হয়ে জমি দখল করে, তবে সেটি ভিন্ন আলোচনার বিষয়।”  

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক আইনের অন্যতম ভিত্তি হলো রাষ্ট্রের আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা করা এবং বলপ্রয়োগে ভূমি দখল নিষিদ্ধ করা। ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারিত্বকে অবৈধ ঘোষণা করে তা অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দেয়।  

তবে ইসরায়েল নিজস্ব আইনে সীমানার স্পষ্ট রূপরেখা নির্ধারণ করেনি। ১৯৮১ সালে সিরিয়ার গোলান হাইটস দখল আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত না হলেও যুক্তরাষ্ট্র সেখানে ইসরায়েলি সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে লেবাননের অভ্যন্তরে নতুন সামরিক আউটপোস্ট স্থাপন করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।  

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও কট্টরপন্থি মহলে দীর্ঘদিন ধরে ‘বৃহত্তর ইসরায়েল’ গঠনের ধারণা প্রচলিত। ২০২৩ সালে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ একটি মানচিত্র প্রদর্শন করে আন্তর্জাতিক মহলে ক্ষোভের জন্ম দেন। ওই মানচিত্রে ফিলিস্তিন ছাড়াও লেবানন, সিরিয়া ও জর্ডানের অংশকে ইসরায়েলের সীমানায় অন্তর্ভুক্ত দেখানো হয়েছিল।    

সাক্ষাৎকারে হাকাবি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ও আইসিজেকে কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও আইসিসি ও আইসিজে বাতিলের চেষ্টা করছেন, সে জন্য আমি কৃতজ্ঞ।”  

রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আক্রান্ত বা বন্দি হওয়া মার্কিন নাগরিকদের বিষয়ে নীরব থাকার কারণে হাকাবি সমালোচিত হয়েছেন। এছাড়া বিতর্কিত গোয়েন্দা জোনাথন পোলার্ডের সঙ্গে বৈঠক করেও তিনি সমালোচনার মুখে পড়েন।

Logo