পবিত্র রমজান মাসের সূচনা ঘোষণা করেছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সৌদি আরব, কুয়েত ও কাতার চাঁদ দেখা যাওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে রমজান শুরু হওয়ার ঘোষণা দেয়। ফলে বুধবার থেকে এসব দেশে মুসলমানরা রোজা পালন শুরু করেছেন। একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতও বুধবারকে রমজানের প্রথম দিন হিসেবে ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে ওমান জানিয়েছে, মঙ্গলবার চাঁদ দেখা না যাওয়ায় বুধবার শাবান মাস পূর্ণ হবে এবং বৃহস্পতিবার থেকে রমজান শুরু হবে।
ওমানের রাজধানী মাসকাটসহ সারাদেশে রমজানকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। মসজিদগুলোতে তারাবির নামাজের আয়োজন করা হয়েছে, ঘরবাড়ি ও পাড়া-মহল্লা সাজানো হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী সাজসজ্জায়। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মঘণ্টা কমিয়ে আনা হয়েছে, যাতে নাগরিকরা ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কাজের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারেন। রয়্যাল ওমান পুলিশ জানিয়েছে, রমজান মাসে সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত অফিস সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজার ও শপিং সেন্টারগুলোতে মানুষের ভিড় বেড়েছে, সবাই প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ও ঐতিহ্যবাহী রমজানের খাবার সংগ্রহ করছেন।
কুয়েতে চাঁদ দেখা যাওয়ার পর মঙ্গলবার রাতেই রমজান শুরু হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। ফলে বুধবার ভোর থেকে দেশটির মুসলমানরা রোজা পালন শুরু করেছেন। একইভাবে সৌদি আরবেও চাঁদ দেখা যাওয়ার পর রমজান শুরু হয়েছে। কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও একই দিন রোজা শুরুর ঘোষণা দিয়েছে।
রমজান মাস মুসলিম বিশ্বের জন্য আধ্যাত্মিক উন্নয়ন, আত্মসংযম ও দান-খয়রাতের সময়। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এ মাসকে কেন্দ্র করে সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে বিশেষ উৎসাহ দেখা যায়। মসজিদগুলোতে কোরআন তেলাওয়াত, ইফতার আয়োজন এবং দরিদ্রদের সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বিশ্বের অন্যান্য দেশেও চাঁদ দেখা যাওয়ার ওপর নির্ভর করে রমজান শুরু হবে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরব, কুয়েত ও কাতারের ঘোষণার মধ্য দিয়ে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে রমজান মাসের সূচনা হলো। ওমান বৃহস্পতিবার থেকে রোজা শুরু করবে। এভাবে ভিন্ন ভিন্ন দিনে শুরু হলেও পুরো মুসলিম বিশ্ব একই আধ্যাত্মিক আবহে প্রবেশ করছে।
logo-1-1740906910.png)