Logo
×

Follow Us

মধ্যপ্রাচ্য

রমজানে ওমরাহ হজের বিশেষ মর্যাদা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪৭

রমজানে ওমরাহ হজের বিশেষ মর্যাদা

রমজান মাস মুসলিম উম্মাহর জন্য রহমত, মাগফিরাত ও মুক্তির মাস। এই মাসে প্রতিটি ইবাদতের সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি করা হয়। আর যদি এই সময়ে আল্লাহর ঘরকে কেন্দ্র করে ওমরাহ আদায় করা হয়, তার মর্যাদা আরো বেড়ে যায়।  

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “রমজান মাসে একটি ওমরাহ আদায় করা একটি হজের সমতুল্য।” অন্য বর্ণনায় এসেছে, “আমার সঙ্গে একটি হজ আদায় করার সমতুল্য।” (বুখারি, হাদিস: ১৮৬৩)। তবে আলেমরা ব্যাখ্যা করেছেন, এখানে সওয়াবের সমতার কথা বলা হয়েছে, ফরজ হজের বিকল্প নয়।  

ইসলামে সময় ও স্থানের মর্যাদা অনুযায়ী আমলের মূল্য বৃদ্ধি পায়। রমজান মাস নিজেই বরকতপূর্ণ সময়। আল্লাহ বলেন, “রমজান মাস, যে মাসে কোরআন নাজিল করা হয়েছে।” (সুরা বাকারাহ: ১৮৫)। নবীজি (সা.) বলেছেন, রমজান এলে জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজা বন্ধ করা হয়। তাই এই সময়ে ওমরাহর মতো ইবাদত বহুগুণে মর্যাদাপূর্ণ হয়ে ওঠে।  

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “এক ওমরাহর পর আরেক ওমরাহ উভয়ের মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহের জন্য কাফফারা।” (বুখারি, হাদিস: ১৭৭৩)। অর্থাৎ ছোট গুনাহগুলো মাফ হয়ে যায়। রমজান নিজেই গুনাহ মাফের মাস। তাই রমজান ও ওমরাহ একত্র হলে মুমিনের জন্য আত্মশুদ্ধির বিরল সুযোগ তৈরি হয়।  

রমজানের মূল লক্ষ্য তাকওয়া অর্জন। আল্লাহ বলেন, “রোজা ফরজ করা হয়েছে, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।” (সুরা বাকারাহ: ১৮৩)। মক্কা-মদিনার পরিবেশে রোজা, তারাবি, কোরআন তিলাওয়াত ও কাবার সামনে ইবাদত মানুষের অন্তরে গভীর পরিবর্তন আনে। ইবনে রজব আল-হাম্বলি (রহ.) বলেছেন, পবিত্র সময় ও স্থান একত্র হলে ইবাদতের প্রভাব আরো গভীর হয়।

উম্মে সিনান (রা.)-এর ঘটনা থেকে জানা যায়, নবীজী (সা.) তাকে রমজানে ওমরাহর সুসংবাদ দেন, যিনি হজে যেতে পারেননি। আলেমরা বলেন, এটি উম্মতের জন্য সান্ত্বনা, যারা হজে যেতে পারেন না, তারা রমজানে ওমরাহর মাধ্যমে বিশাল সওয়াব অর্জন করতে পারেন। 

Logo