মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় ১ কোটি প্রবাসীকে নিয়ে ভাববে সরকার?
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:০৫
বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি মানুষ মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসী হিসেবে বসবাস করছেন। সংখ্যার হিসাবে এটি দেশের জনসংখ্যার প্রায় ৫.৫ শতাংশ। পরিবারসহ হিসাব করলে প্রায় ২৫ শতাংশ ভোটার প্রবাসীদের সঙ্গে যুক্ত। অর্থাৎ ৩০০ আসনের সংসদে আনুপাতিক হারে প্রায় ২০টি আসনের সমতুল্য জনসংখ্যা রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীদের।
তবু জাতীয় রাজনীতিতে তাদের ভূমিকা প্রায় অদৃশ্য। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসীদের অর্থনৈতিক অবদান বিবেচনায় অনেকের প্রত্যাশা ছিল অন্তত একজন বা দুজন প্রবাসী নেতাকে সংসদে মনোনয়ন দেওয়া হবে। বিশেষ করে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সৌদি আরব বিএনপির আহ্বায়ক আহমেদ আলী মুকিব এবং যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মান্নানের নাম আলোচনায় ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।
সৌদি আরব পশ্চিমাঞ্চল বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব প্রকৌশলী নুরুল আমিন বলেন, প্রথমবারের মতো প্রবাসীদের পোস্টাল ভোট প্রদানের সুযোগ দেওয়া হলেও সবচেয়ে বেশি ভোট এসেছে মধ্যপ্রাচ্য থেকেই। এটি ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রক্রিয়া। তবু প্রবাসীরা দেশের নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তার মতে, সংখ্যায় কম হলেও এই ভোট সাংসদ নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে।
তিনি আরো বলেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। ৫০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় শ্রম দিয়ে অর্জিত অর্থ তারা দেশে পাঠান। রাজনৈতিক অস্থিরতায় যখন নেতাকর্মীরা বিপদে পড়েন, তখন মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীরা আশ্রয় দেন, অর্থ ব্যয় করেন। অথচ রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক দলগুলো তাদের খবর রাখে না।
প্রবাসীদের দাবি, নতুন সরকার গঠনের সময় অন্তত একজন মন্ত্রীকে বিশেষ কোটায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত, যিনি দীর্ঘদিন মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসী ছিলেন এবং শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখেন। তাদের মতে, হবিগঞ্জের সন্তান আহমেদ আলী মুকিব হতে পারেন সেই প্রতিনিধি।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের অবদান অপরিসীম। ইউরোপ-আমেরিকার প্রবাসীরা অনেক সময় দেশে অর্থ পাঠালেও স্থায়ীভাবে বিদেশে বসবাস করেন। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীরা তাদের আয়ের শতভাগ দেশের উন্নয়নে ব্যয় করেন। তবু জাতীয় রাজনীতি ও সরকার গঠনে তাদের ভূমিকা নগণ্য।
প্রবাসীদের এই ক্ষোভ ও প্রত্যাশা নতুন সরকারের সামনে একটি বড় প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে- অর্থনীতির প্রধান অবলম্বন হয়ে ওঠা শ্রমজীবী প্রবাসীদের কি রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব দেওয়া হবে, নাকি তারা আগের মতোই অবহেলিত থেকে যাবেন?
logo-1-1740906910.png)