বাহরাইনে এক সৎমাকে নিজের কিশোরী সৎকন্যাকে যৌন পাচারে বাধ্য করার অভিযোগে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। উচ্চ অপরাধ আদালত ৩৮ বছর বয়সী ওই নারীকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে তাকে ২ হাজার দিনার জরিমানা করা হয়েছে। গালফ ডেইলি নিউজ এ সংবাদ প্রকাশ করেছে।
আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, আর্থিক সংকটে থাকা পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে ওই নারী তার ১৭ বছর বয়সী সৎকন্যাকে পতিতাবৃত্তিতে নামতে প্ররোচিত করেন। আদালত মনে করেছে, তিনি কেবল প্ররোচিতই করেননি, বরং সক্রিয়ভাবে সহায়তা করেছেন এবং একজন অপ্রাপ্তবয়স্ককে অপরাধে যুক্ত করেছেন।
বাহরাইনের হাই ক্রিমিনাল কোর্ট রায়ে উল্লেখ করেছে, একজন অভিভাবক হিসেবে তার দায়িত্ব ছিল সন্তানের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। কিন্তু তিনি সেই দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে কন্যাকে শোষণের পথে ঠেলে দিয়েছেন। আদালত এটিকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে তিন বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানার শাস্তি দিয়েছে।
ঘটনাটি স্থানীয় সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, এটি কেবল একটি পরিবারের ট্র্যাজেডি নয়, বরং শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতার প্রতিফলন। তারা দাবি করেছেন, অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষায় আরো কঠোর আইন প্রয়োগ এবং সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
বাহরাইনসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে শিশু ও নারীর সুরক্ষা নিয়ে নানা উদ্যোগ থাকলেও এ ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে যে পরিবারভিত্তিক শোষণ এখনো বড় সমস্যা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আর্থিক সংকটের কারণে অনেক পরিবার ঝুঁকিপূর্ণ পথে হাঁটে, যা শেষ পর্যন্ত শিশুদের জীবনকে বিপন্ন করে।
logo-1-1740906910.png)