মক্কার তীব্র গরমেও কেন ঠান্ডা থাকে কাবার মেঝে?
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:২৫
মক্কার মসজিদুল হারাম বা কাবা শরিফকে ঘিরে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের আগ্রহ আর পরম মমতার অনুভূতির কমতি নেই। কিন্তু জানেন কি? মরুভূমির তীব্র গরমের মধ্যেও কী করে কাবার মেঝে থাকে হীম শীতল?
প্রচণ্ড রোদ। তাপমাত্রা ৪৫ থেকে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁইছুঁই। চারপাশে উত্তপ্ত বাতাস। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে কাবা শরিফের চারপাশের সাদা মার্বেল মেঝেতে খালি পায়ে হাঁটলেও পুড়ে যাওয়ার ভয় নেই। বরং শীতল এক স্পর্শ। কীভাবে সম্ভব?
মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামের এই শীতলতার পেছনে রয়েছে আধুনিক প্রকৌশল ও বিশেষ পাথরের ব্যবহার। কাবা ঘিরে যে মার্বেল বসানো হয়েছে, তা কোনো সাধারণ মার্বেল নয়। এটি গ্রিস থেকে আনা বিশেষ ধরনের থাসোস মার্বেল, যার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যই হলো তাপ প্রতিফলিত করা।
এই মার্বেলের রং অত্যন্ত হালকা। সূর্যের তীব্র আলো পড়লেও এটি তাপ শোষণ না করে অধিকাংশ আলো ও তাপ ফিরিয়ে দেয়। ফলে পাথরের গায়ে তাপ জমে না। একই সঙ্গে মার্বেলগুলো পুরু করে বসানো হয়েছে এবং নিচে এমন কাঠামো রাখা হয়েছে, যা তাপ ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে। খোলা প্রাঙ্গণে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থাও রয়েছে, যা প্রাকৃতিকভাবেই তাপমাত্রা কমিয়ে রাখে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মরুভূমির আবহাওয়ায় লাখো মুসল্লির নিরাপদ ইবাদতের কথা বিবেচনা করেই এই নকশা করা হয়েছে। হজ বা ওমরাহর সময় হাজার হাজার মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে তাওয়াফ করেন। গরমে পা পুড়ে গেলে তা মারাত্মক সমস্যা হয়ে দাঁড়াত। কিন্তু এই প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার কারণে মুসল্লিরা স্বস্তিতে ইবাদত করতে পারেন।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রবাসী মুসলমানদের কাছে এটি শুধু স্থাপত্যের বিস্ময় নয়, বরং এক অনন্য অনুভূতি। প্রচণ্ড গরমের মাঝেও কাবার চত্বরে দাঁড়িয়ে যে শীতলতা অনুভব করা যায়, তা যেন আধ্যাত্মিক প্রশান্তির সঙ্গেও মিলেমিশে যায়।
আধুনিক বিজ্ঞান ও পরিকল্পনার এমন সমন্বয়ই পবিত্র এই স্থানকে শুধু ধর্মীয় নয়, প্রকৌশলগত দিক থেকেও অনন্য করে তুলেছে।
logo-1-1740906910.png)