Logo
×

Follow Us

মধ্যপ্রাচ্য

সারাবিশ্বে মশহুর বাহরাইনের খেজুর

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৮

সারাবিশ্বে মশহুর বাহরাইনের খেজুর

বাহরাইনে খেজুরের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক বহু পুরনো। রমজান মাসে ইফতারের প্রথম মিষ্টি হিসেবে খেজুরের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে প্রশ্ন উঠছে খেজুর কি কেবল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের অংশ, নাকি এর ভবিষ্যৎ আরো বিস্তৃত?  

একসময় বাহরাইনকে বলা হতো ‘ল্যান্ড অব আ মিলিয়ন পাম ট্রিজ’। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই খেজুর বাগানগুলো সঙ্কুচিত হয়ে গেছে। অনেক জায়গায় গাছ কেবল সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য রাউন্ড আবাউটে বা জাতীয় দিবসের সাজসজ্জায় ব্যবহৃত হয়। ফলে অনেকের কাছে খেজুর শিল্প অতীতের বিষয় মনে হয়েছিল।  

কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করেছে। স্থানীয় বাজারে এখন দেখা যাচ্ছে নতুন ধারা। তরুণ উদ্যোক্তারা সাধারণ প্লাস্টিকের প্যাকেট বাদ দিয়ে খেজুরকে শিল্পসম্মত ও আধুনিক প্যাকেজিংয়ে বাজারজাত করছেন। শুধু ফল নয়, তারা বিক্রি করছেন বাহরাইনের মাটির স্বাদ। খেজুরে যোগ হচ্ছে নানান ফ্লেভার- সালটেড ক্যারামেল, তাহিনি, টোস্টেড নাটস। এভাবে খেজুরকে নতুন করে পরিচিত করা হচ্ছে বিশ্ববাজারে।  

বাহরাইন সরকারও প্রযুক্তি ব্যবহার করে খেজুর শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে। টিস্যু কালচার প্রযুক্তির মাধ্যমে স্থানীয় জাত যেমন ইখলাস ও বারহি পুনরুজ্জীবিত করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক বিনিয়োগ হলে বাহরাইন শুধু খেজুর উৎপাদন নয়, বরং প্রিমিয়াম সিডলিংসের বৈশ্বিক রপ্তানিকারক হতে পারে।  

এখন খেজুর ব্যবসা কেবল বাণিজ্য নয়, কমিউনিটিরও অংশ হয়ে উঠছে। হুরাত আ’আলির কৃষক বাজারে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে খেজুর কিনে মানুষ শুধু রমজানের বাজার তালিকা পূরণ করছে না, বরং স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে।  

যদিও বাহরাইনে আর এক মিলিয়ন খেজুর গাছ নেই, তবে যে গাছগুলো আছে সেগুলো এখন সোনার মতো মূল্যবান হয়ে উঠছে। খেজুরকে কেন্দ্র করে নতুন উদ্যোক্তা, প্রযুক্তি ও কমিউনিটি উদ্যোগ বাহরাইনের ঐতিহ্যকে নতুন করে বিশ্বে তুলে ধরছে। 

রমজান আসন্ন, আর ইফতারের টেবিলে খেজুর থাকবে অপরিহার্য। তবে এবার খেজুরকে দেখা হচ্ছে শুধু আচার নয়, বরং বাহরাইনের স্থায়ী সাফল্যের প্রতীক হিসেবে।

Logo