সৌদি আরবে অবস্থানরত ১৭ হাজার ৩৯৪ জন রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশি মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। আরো ৫১ হাজার ৬৯৮ জনকে পাসপোর্ট দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এর মধ্যে প্রায় ২১ হাজারের বায়োমেট্রিক সম্পন্ন হয়েছে এবং ২০ হাজারের বেশি পাসপোর্ট ইতোমধ্যে প্রিন্টে রয়েছে। তবে ফি বাকি থাকায় ১৪১ জনের পাসপোর্ট আটকে আছে। দৈনিক মানব জমিনে এ সংবাদটি প্রকাশ করা হয়।
সরকারি সূত্র বলছে, সৌদি সরকারের কূটনৈতিক চাপের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েই বিষয়টি আলোচনায় আসে, কিন্তু আন্দোলন ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় প্রক্রিয়া থেমে যায়। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সৌদি দূতাবাস আবার বিষয়টি সামনে আনে এবং রিয়াদ স্পষ্ট জানায়, রোহিঙ্গাদের দ্রুত পাসপোর্ট না দিলে বৈধভাবে কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠানো হতে পারে। এর পরই সরকার প্রক্রিয়া শুরু করে।
২০২৫ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ১৮ হাজার রোহিঙ্গার হাতে পাসপোর্ট হস্তান্তর করা হয়েছে। এসব তথ্য সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে সরবরাহও করা হয়েছে। তবে তারা একটি বিশেষ ক্যাটাগরির পাসপোর্ট পেয়েছেন বলে জানা গেছে, যদিও সেটি কী ধরনের তা সরকার স্পষ্ট করেনি।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছেন, সৌদি সরকারের অনুরোধে ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে পাসপোর্ট দেওয়া হলেও তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে না। তার এই বক্তব্যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নাগরিকত্ব ছাড়া বাংলাদেশি পাসপোর্ট পাওয়া সম্ভব নয়। অনেক দেশ শরণার্থীদের জন্য ট্রাভেল পারমিট বা আইডেন্টিটি সার্টিফিকেট দেয়, যা পাসপোর্টের মতো কাজ করে কিন্তু নাগরিকত্ব স্বীকার করে না। বাংলাদেশ সে পথে না গিয়ে সরাসরি পাসপোর্ট দিয়েছে।
পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট দেওয়া মানে তাদের বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। অথচ জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম সনদ ছাড়া পাসপোর্ট ইস্যু করা আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশি পরিচয় ব্যবহার করে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। অনেকেই হাতে লেখা পুরনো পাসপোর্ট নিয়ে সেখানে গিয়ে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আর নবায়ন করতে পারেননি। ফলে তারা অবৈধ হয়ে পড়েন এবং নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। এতে সৌদি সরকার ক্ষুব্ধ হয়ে বাংলাদেশকে চাপ দেয়।
logo-1-1740906910.png)