Logo
×

Follow Us

মধ্যপ্রাচ্য

ইরান-মার্কিন উত্তেজনা

হরমুজে শক্তি দেখাচ্ছে ইরান, মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে যুদ্ধের শঙ্কা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২:০৫

হরমুজে শক্তি দেখাচ্ছে ইরান, মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে যুদ্ধের শঙ্কা

ইরান-মার্কিন সম্ভাব্য সংঘাত ঘিরে যখন উত্তেজনা চরমে, ঠিক তখনই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে শক্তি প্রদর্শন শুরু করেছে ইরান। পশ্চিম এশিয়ার সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি রণতরী অবস্থান নেওয়ার পর প্রতিক্রিয়া হিসেবে রোববার হরমুজ প্রণালীতে নৌ মহড়া শুরু করেছে ইরানের নৌবাহিনী।

হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সংকীর্ণ নৌপথ। বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি তেল এই পথ দিয়েই পরিবহন হয়। এই প্রণালী এখন ইরানের হাতে কার্যত একটি কৌশলগত তুরুপের তাস। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায়, তাহলে ইরান হরমুজ প্রণালী অচল করে দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রও বড় অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়বে, কারণ তখন বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠতে পারে।

এই উত্তেজনার মধ্যেই বন্দর আব্বাসে বিস্ফোরণের ঘটনা ইরানজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রোববার প্রকাশ্যে বক্তব্য দেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গ্যাস, তেল ও খনিজ সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়, আর সেই লক্ষ্যেই যুদ্ধের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

খামেনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ইরান কোনো হুমকিতে ভয় পায় না। তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি হামলা চালায়, তাহলে সেই সংঘাত শুধু ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে।

এই আশঙ্কাতেই আরব বিশ্বের নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ দিচ্ছেন, যেন ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা হয়। তবে সেই চাপ কতটা কার্যকর হবে, তা স্পষ্ট নয়। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তার টেবিলে যুদ্ধ এবং সমঝোতা দুটিই রয়েছে। তবে তিনি আরব নেতাদের কাছে নিজের প্রকৃত পরিকল্পনা প্রকাশ করতে রাজি নন। তার ভাষায়, পরিকল্পনা জানালে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে।

এরই মধ্যে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে (আইআরজিসি) সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সেনাবাহিনীকেও পাল্টা সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে সংঘাতের আশঙ্কায় নিরাপত্তা বাড়াতে ওমান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলছে একের পর এক সামরিক মহড়া।

যুদ্ধের হুমকি আর সমঝোতার আলোচনা দুটিই প্রকাশ্যে ও পর্দার আড়ালে চললেও পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নাগরিক, প্রবাসী ও বাসিন্দাদের মনে যে অনিশ্চয়তা ও ভীতি তৈরি হয়েছে, তা কবে কাটবে, সে প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা।

Logo