কুয়েতের সড়কে দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত শব্দ দূষণ স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও গাড়ির ইঞ্জিনের অস্বাভাবিক শব্দ, হর্ন এবং অন্যান্য যান্ত্রিক আওয়াজ শহরের পরিবেশকে অশান্ত করে তুলত। তবে সম্প্রতি পরিস্থিতি বদলেছে। আরব টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কঠোর ট্রাফিক আইন প্রয়োগের ফলে এখন রাস্তায় শব্দ অনেকটাই কমে গেছে, যা বাসিন্দাদের জন্য স্বস্তির বিষয় হয়ে উঠেছে।
কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে জেনারেল ট্রাফিক ডিপার্টমেন্ট শব্দ দূষণ কমাতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। অতিরিক্ত শব্দ তৈরি করা যানবাহনের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কোনো গাড়ি নিয়ম ভঙ্গ করলে সেটি দুই মাস পর্যন্ত জব্দ করে রাখা হচ্ছে। এই পদক্ষেপের ফলে চালকদের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে এবং শব্দ দূষণ কমে গেছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মাত্র একদিনে শব্দ দূষণ সংক্রান্ত ১৯টি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আগে প্রতিদিন অনেক বেশি অভিযোগ আসত, সেখানে এই সংখ্যা এখন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এটি প্রমাণ করে যে ট্রাফিক বিভাগের অভিযান কার্যকর হয়েছে এবং জনশান্তি রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং যারা অতিরিক্ত শব্দ তৈরি করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ফলে শহরের পরিবেশ আগের তুলনায় অনেক বেশি শান্ত হয়েছে।
কুয়েতের বাসিন্দারা বলছেন, রাস্তায় শব্দ কমে যাওয়ায় তারা স্বস্তি পাচ্ছেন। আগে রাতে কিংবা ব্যস্ত সময়ে অতিরিক্ত শব্দের কারণে বিরক্তি তৈরি হতো। এখন অনেক এলাকায় শান্ত পরিবেশ ফিরে এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ শুধু শব্দ দূষণ কমাবে না, বরং ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাহায্য করবে। একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য ও মানসিক শান্তির জন্যও এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
logo-1-1740906910.png)