মধ্যপ্রাচ্যের নিউজ আপডেট ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
বাহরাইনে বিল্ডিং থেকে লাফিয়ে পড়ে প্রবাসীর মৃত্যু
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:২৭
বাহরাইন
বাহরাইনে বিল্ডিং থেকে লাফিয়ে পড়ে প্রবাসীর মৃত্যু
বাহরাইনে উঁচু বিল্ডিং থেকে লাফিয়ে পড়ে এক প্রবাসী কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। রাজধানী মানামার কাছে আল শুয়াফিয়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিউজ অব বাহরাইন তাদের রিপোর্টে দাবি করেছে, প্রবাসী ওই কর্মী আত্মহত্যা করে থাকতে পারে। এশিয়ান বলা হলেও মারা যাওয়া কর্মীটি এশিয়ার কোন দেশের নাগরিক বা তার নাম জানানো হয়নি। বাহরাইনে আছেন প্রায় দেড় লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি। এছাড়া আছেন ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও নেপালের কর্মীরা। লাখ লাখ টাকা খরচ করে তারা প্রবাসে পাড়ি জমান। ভালো রোজগারের আশায় এসব দেশের শ্রমিকরা মধ্যপ্রাচ্যের নানা দেশে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেন। সেখানে তাদের অনেকেই একাকী ও নিঃসঙ্গ জীবন কাটান। স্বজন-পরিজন ছাড়া অনেকে এ সময় মানসিক হতাশায় পড়ে যান। প্রবাসীরা জানিয়েছেন, এই বাস্তবতায় কমিউনিটির মানুষের সাথে নানা কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলে তারা হতাশা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।
কুয়েত
কুয়েতে শুরু হয়েছে শ্রমিক সচেতনতা ক্যাম্পেইন
কুয়েতে গৃহপরিচারিকা ও বাড়ির শ্রমিকদের অধিকার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে নতুন কর্মসূচি চালু করেছে পাবলিক অথরিটি ফর ম্যানপাওয়ার (PAM)। এতে প্রতি বছরের চাকরি শেষে এক মাসের বেতনের সমপরিমাণ ইনডেমনিটি ভাতা পাওয়ার অধিকার তুলে ধরা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ আরো জানিয়েছে, কাজের বাইরে প্রবাসী কর্মীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধ করা যাবে না। কারণ এটি তাদের মৌলিক অধিকার। তবে বাস্তবে এই অধিকার থেকে কর্মীদের বঞ্চিত করার অভিযোগ প্রায়ই পাওয়া যাচ্ছে। সে কারণেই কর্মী ও নিয়োগকর্তা উভয় পক্ষকে আইনগত অধিকার ও দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে জানাতে এই সচেতনতা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।প্রচারণায় বলা হয়েছে, যদি কোনো গৃহপরিচারিকা ছয় মাসের গ্যারান্টি সময় শেষ হওয়ার আগে চাকরি ছাড়েন, তাহলে নিয়োগকর্তাকে অবশ্যই PAM-এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে, যাতে রিফান্ড ও অন্যান্য অধিকার সঠিকভাবে নিশ্চিত করা যায়।
এছাড়া আইন অনুযায়ী, গৃহপরিচারিকাদের মাসিক বেতন লিখিত পেমেন্ট রশিদ বা ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে এবং চাকরি শেষে তাদের ইনডেমনিটির অর্থ নিয়োগকর্তাকেই দিতে হবে।
সৌদি আরব
সৌদিতে কিছু চাকরিতে থাকছে না প্রবাসীদের পদ
সৌদি আরবে কিছু বিশেষ পদে প্রবাসীদের আর চাকরির সুযোগ থাকছে না। সৌদি সরকার এ নিয়ে নতুন নিয়ম করেছে, যাতে কিছু উচ্চ পদে প্রবাসীরা আর চাকরি পাবে না এবং ওই পেশাগুলো এখন শুধু সৌদি নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত করা হয়েছে। এই নতুন সিদ্ধান্ত Qiwa নামে দেশের অফিসিয়াল কর্মসংস্থান প্ল্যাটফর্ম থেকে এসেছে। নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, “জেনারেল ম্যানেজার” পেশাটিকে তালিকা থেকে তুলে আনা হয়েছে এবং সেটিতে কেবল সৌদি নাগরিকই চাকরি করতে পারবে, যদিও পরে আবার স্পষ্ট করা হয়েছে যে যদি কোনো কোম্পানির কমার্শিয়াল রেজিস্ট্রেশনে ওই পদের নাম ঠিক থাকে, তাহলে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে প্রবাসীও সেই পদে থাকতে পারে। তবে এখন তা শুধু সৌদি নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে। একই সাথে সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ, মার্কেটিং স্পেশালিস্ট ও পারচেজ ম্যানেজার পেশাগুলোতে কেবল সৌদিদের রাখার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ এই চারটি পেশায় চাকরি বদলাতে বা নতুনভাবে চাকরি পাওয়া প্রবাসীদের সহজ হবে না। এর লক্ষ্য হলো দেশটির ‘সাউদাইজেশন’ নীতি বাস্তবায়ন করা এবং স্থানীয় নাগরিকদের জন্য চাকরির সুযোগ বাড়ানো। এর মধ্য দিয়ে বিদেশি কর্মীদের ভূমিকা কিছু উচ্চ পদে কমিয়ে আনা।
সংযুক্ত আরব আমিরাত
আমিরাতে বেড়ে গেছে অনলাইন প্রতারণা
সংযুক্ত আরব আমিরাতে সাইবার সিকিউরিটি কাউন্সিল দেশজুড়ে বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে যে দেশটিতে সম্প্রতি অনলাইনে প্রতারণার ঘটনা বাড়তে শুরু করেছে। প্রতারক চক্র ফোনকল, এসএমএস, হোয়াটসঅ্যাপ, ই-মেইল এবং ভুয়া ওয়েবসাইটের মাধ্যমে মানুষকে ফাঁদে ফেলছে এবং বিভিন্ন আকর্ষণীয় অফার, পুরস্কার, জরিমানা বা জরুরি বার্তার কথা বলে ব্যক্তিগত তথ্য ও ব্যাংক কার্ডের তথ্য চেয়ে নিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া লিংক পাঠিয়ে ব্যবহারকারীকে সেখানে ক্লিক করতে বাধ্য করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে তাদের গোপন তথ্য চুরি করা হয়। সাইবার সিকিউরিটি কাউন্সিল স্পষ্ট করে বলেছে যে কোনো সরকারি সংস্থা বা বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান কখনোই হঠাৎ করে বার্তা পাঠিয়ে পাসওয়ার্ড, ওটিপি বা পেমেন্ট তথ্য চাইবে না। তাই এ ধরনের বার্তা পেলে সেগুলো উপেক্ষা করতে হবে। পাশাপাশি জনগণকে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার, সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক না করা এবং প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।
কাতার
কাতারে লাইসেন্স ড্রাইভিং নিয়ে সতর্ক করল পুলিশ
কাতারে বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানোর বিরুদ্ধে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো দেশটির আইনে অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় এবং এর জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কেউ যদি লাইসেন্স ছাড়া বা অবৈধ কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স নিয়ে গাড়ি চালাতে ধরা পড়ে, তাহলে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। অথবা ৫০ হাজার কাতারি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই আইন প্রয়োগের মূল উদ্দেশ্য হলো সড়কে দুর্ঘটনা কমানো এবং চালক, যাত্রী ও পথচারীদের জীবন নিরাপদ রাখা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ড্রাইভিংয়ে কেউ যেন আইন অমান্য না করে, করলে বড় ধরনের আইনি জটিলতা ও কঠিন শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে।
logo-1-1740906910.png)