Logo
×

Follow Us

মধ্যপ্রাচ্য

সৌদি আরবে প্রবাসীদের সম্পত্তি কেনার প্রভাব

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:০৪

সৌদি আরবে প্রবাসীদের সম্পত্তি কেনার প্রভাব

সৌদি আরবের রিয়েল এস্টেট খাতে বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে প্রথমবারের মতো বিদেশিদের জন্য সম্পত্তি কেনার সুযোগ উন্মুক্ত হয়েছে। এর আগে বিদেশিরা শুধু ভাড়া নিতে পারতেন বা সীমিত মালিকানা কাঠামোর মধ্যে থাকতে হতো। নতুন আইনটি ২০২৫ সালের জুলাইয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়, যা নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় বিদেশিদের মালিকানা নিশ্চিত করছে।  

প্রথম দিকে সবচেয়ে বেশি চাহিদা আসবে সৌদি আরবে বসবাসরত প্রবাসীদের কাছ থেকে। বিশেষ করে রিয়াদ ও জেদ্দায় উচ্চ আয়ের পেশাজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে ভাড়ার চাপের মুখে ছিলেন। এখন তারা মালিকানা অর্জনের বাস্তব সুযোগ পাচ্ছেন। স্থানীয় এলাকা, কর্মসংস্থান ও নিয়মকানুন সম্পর্কে তাদের ধারণা থাকায় তারা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। রিয়াদে ভাড়ার চাপ এতটাই বেড়েছিল যে কর্তৃপক্ষ পাঁচ বছরের জন্য ভাড়া বৃদ্ধির সীমা নির্ধারণ করেছে।  

দ্বিতীয় ধাপে আসবেন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা, বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে। তারা দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখে বিনিয়োগ করবেন। তবে তারা সতর্কভাবে এগোবেন, যেখানে সম্পত্তির মান, নিয়মকানুনের স্বচ্ছতা ও দীর্ঘমেয়াদি লাভকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তৃতীয় ধাপে আসবেন বিশ্বব্যাপী মুসলিম ক্রেতারা, যাদের কাছে সৌদি আরবে মালিকানা শুধু আর্থিক নয়, ব্যক্তিগত গুরুত্বও বহন করে।  

তবে হঠাৎ করে বাজারে বড় ধরনের ক্রয়-বিক্রয়ের ঢেউ আসবে না। মালিকানা নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সীমিত থাকবে। ফলে ধীরে ধীরে বাজারে অংশগ্রহণ বাড়বে। প্রথম বছরে স্থিতিশীল আয়ের প্রবাসীরাই নেতৃত্ব দেবেন। আন্তর্জাতিক ক্রেতারা দেখবেন অনুমোদন, অর্থায়ন ও পুনরায় বিক্রির নিয়মগুলো কীভাবে কাজ করছে।  

অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটও স্থিতিশীল চাহিদাকে সমর্থন করছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে সৌদি আরবের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে প্রায় ৪ শতাংশ, যা মূলত অ-তেল খাত দ্বারা চালিত। এটি দীর্ঘমেয়াদি আবাসন চাহিদাকে বাড়াবে। দ্বিতীয় বছরে যদি লেনদেন প্রক্রিয়া সহজ হয় এবং ব্যাংকগুলো বিদেশিদের জন্য মর্টগেজ দিতে আগ্রহী হয়, তবে বাজার আরো প্রসারিত হতে পারে।  

ভৌগোলিকভাবে রিয়াদে সবচেয়ে আগে প্রভাব পড়বে। চাকরির সুযোগ, আয় বৃদ্ধি, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও ভাড়ার চাপ মিলিয়ে রাজধানী শহরে আবাসন বাজার দ্রুত এগোচ্ছে। ২০২৫ সালে রিয়াদে ভিলার দাম ১১ শতাংশ বেড়েছে। জেদ্দা এরপর আসবে, যেখানে জীবনধারাভিত্তিক ক্রেতা ও আন্তর্জাতিক চাহিদা বেশি। ২০২৫ সালে জেদ্দায় লেনদেনের পরিমাণ ১০ শতাংশ বেড়েছে।

চাহিদা মূলত আবাসিক সম্পত্তিতে কেন্দ্রীভূত থাকবে। বাণিজ্যিক ও মিশ্র প্রকল্পে পরে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক বিনিয়োগ আসতে পারে। বিদেশিদের মালিকানা প্রথমে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সীমিত থাকবে, যা রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটি তত্ত্বাবধান করবে। এসব এলাকায় স্বচ্ছ লেনদেন, কমিউনিটি মানদণ্ড ও পুনরায় বিক্রির নিশ্চয়তা থাকবে।  

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্রেতাদের উচিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোনো। অনুমোদিত এলাকায় সম্পত্তি কিনতে হবে, পুনরায় বিক্রি ও ভাড়ার নিয়ম বুঝতে হবে, কর ও নিবন্ধন সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে পুনরায় বিক্রির বাজার দুর্বল হতে পারে, তাই দীর্ঘমেয়াদি মালিকানা ধরে রাখাই বাস্তবসম্মত।  

সংযুক্ত আরব আমিরাতের তুলনায় সৌদি আরবের মডেল নতুন ও বেশি নিয়ন্ত্রিত। এখানে অনুমোদন ও নিয়মকানুনের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। তাই ক্রেতাদের জন্য যথাযথ যাচাই-বাছাই অপরিহার্য।  

এই পরিবর্তন সৌদি আরবের জাতীয় লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। দেশটি ২০৩০ সালের মধ্যে ৭০ শতাংশ গৃহমালিকানা অর্জনের লক্ষ্য নিয়েছে। বর্তমানে এই হার প্রায় ৬৫ শতাংশ। বিদেশিদের মালিকানা বাজারকে গভীরতা দেবে এবং আবাসন খাতকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক করবে। অনুমান করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে সৌদি আরবে ১৫ লাখ নতুন আবাসন ইউনিট প্রয়োজন হবে, যার অর্ধেকের বেশি রিয়াদে।  

সব মিলিয়ে, বিদেশিদের জন্য মালিকানা উন্মুক্ত হওয়া সৌদি আরবকে দীর্ঘমেয়াদি আবাসন বাজার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। এটি প্রবাসী ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে এবং দেশের আবাসন খাতকে আরো টেকসই করে তুলবে।

Logo