শীত ও বৃষ্টিতে গাজার বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্ভোগ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫৯
গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার চার মাস পার হলেও মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। শীতের তীব্র ঠাণ্ডা, বৃষ্টিপাত, অপুষ্টি ও চিকিৎসার অভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের জীবন আরো কঠিন হয়ে উঠছে।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শীত মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ১০টি শিশু হাইপোথার্মিয়ায় মারা গেছে। সিএনএন বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় আল আকসা শহীদ হাসপাতালে তিন মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার কারণ ছিল প্রচণ্ড ঠান্ডা। খান ইউনিসের নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আহমেদ আল ফারা বলেন, শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। তাদের শরীরে চর্বি কম, শক্তির মজুত সীমিত এবং সহজেই শরীরের তাপমাত্রা কমে যায়। বিশেষ করে প্রিম্যাচিউর ও কম ওজনের শিশুরা সবচেয়ে বিপদে রয়েছে।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় অফিস জানিয়েছে, কয়েক লক্ষ মানুষ তাঁবু ও অস্থায়ী আশ্রয়ে বসবাস করছে। শীতকালীন বৃষ্টি ও ঠান্ডার পাশাপাশি প্রবল বাতাসে শত শত তাঁবু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থার প্রধান ফিলিপ লাজ্জারিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি থাকলেও গাজায় মানবিক সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। শীত, বৃষ্টি ও বন্যা মানুষের কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। তিনি জানান, গাজার প্রায় ৯২ শতাংশ বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে এবং এখনো বহু অবিস্ফোরিত বোমা পড়ে আছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ডা. মুনির আল-বারশ জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টিতে ঘরবাড়ি ধসে অন্তত ২৪ জন মারা গেছে। ক্ষুধা, ওষুধের অভাব ও দূষিত পানির কারণে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছে এবং রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। গর্ভবতী নারীরাও অপুষ্টির শিকার হচ্ছেন। ডা. আল ফারা বলেন, মায়ের অপুষ্টি, মানসিক চাপ, চিকিৎসার অভাব ও পুষ্টিকর খাবার না পাওয়ায় অনেক শিশু কম ওজন নিয়ে জন্ম নিচ্ছে।
অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও গাজার কিছু এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান চলছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, উত্তর গাজায় অভিযানের সময় কয়েকজন সন্দেহভাজন যোদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছে।
logo-1-1740906910.png)