যুদ্ধের শঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে ফ্লাইট বিপর্যয়, আকাশপথে অচলাবস্থা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪১
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বাড়তে থাকা সামরিক উত্তেজনার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে একাধিক আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স তাদের ফ্লাইট স্থগিত বা রুট পরিবর্তন করেছে।
এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, ইরান ও ইরাকের আকাশসীমা ব্যবহার এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে ইসরায়েল, দুবাই ও রিয়াদের মতো গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যগুলো বৈশ্বিক আকাশপথ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার হুমকিতে রয়েছে। অ্যাভিয়েশন গ্রুপগুলো মিসাইল ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় বেসামরিক বিমান চলাচলে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে।
মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারি এবং মধ্যপ্রাচ্যের দিকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বিশাল বহর পাঠানোর ঘোষণার পর পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে ওঠে। বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন এবং শক্তিশালী মিসাইল ডেস্ট্রয়ারের বহর পারস্য উপসাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ট্রাম্প এটিকে ‘সতর্কতামূলক মোতায়েন’ হিসেবে দাবি করলেও এতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের সম্ভাবনা প্রবল হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থানের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্র এই সামরিক চাপ প্রয়োগ করছে।
এদিকে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এয়ার ফ্রান্স সাময়িকভাবে দুবাইগামী সব ফ্লাইট বন্ধ করেছে। তারা জানিয়েছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ডাচ এয়ারলাইন্স কেএলএমও তেল আবিব, দুবাই ও রিয়াদে ফ্লাইট স্থগিত করেছে এবং ইরান-ইরাকের আকাশসীমা এড়িয়ে চলছে।
জার্মান লুফথানসা গ্রুপ জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলে কেবল দিনের বেলা বিমান পরিচালনা করছে এবং ইরানের আকাশসীমা পুরোপুরি এড়িয়ে যাচ্ছে। উত্তর আমেরিকার ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স ও এয়ার কানাডাও নিরাপত্তার স্বার্থে তেল আবিবে তাদের ফ্লাইট বাতিল করেছে।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে চলমান সংকট বৈশ্বিক বিমান চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। যাত্রীদের জন্য এটি ভ্রমণ পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে এবং আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলোকে বিকল্প রুট খুঁজতে বাধ্য করছে।
logo-1-1740906910.png)