আমিরাতে সরকারি চাকরিতে ৯৫ দিনের মাতৃত্বকালীন ছুটি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৫১
সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সরকারি চাকরিজীবী নারীদের জন্য ৯৫ দিনের পূর্ণ বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি চালুর পরিকল্পনা করেছে। দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন এই উদ্যোগ নারীদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ বাড়াতে এবং পরিবার ও কর্মজীবনের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। টাইমস অব ইন্ডিয়া এ সংবাদ প্রকাশ করেছে।
বর্তমানে ইউএইতে সরকারি চাকরিজীবী নারীরা ৬০ দিনের মাতৃত্বকালীন ছুটি পান। নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে ছুটি বাড়বে আরো ৩৫ দিন। অর্থাৎ সন্তান জন্মের পর মায়েরা প্রায় তিন মাসেরও বেশি সময় সন্তান ও পরিবারের সঙ্গে কাটাতে পারবেন। এই সিদ্ধান্তকে নারীবান্ধব সংস্কারের বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকারি চাকরিতে এই সুবিধা চালু হলেও এখন প্রশ্ন উঠছে, বেসরকারি খাতেও কি একই ধরনের সুবিধা দেওয়া হবে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি খাতে নতুন নীতি কার্যকর হলে বেসরকারি খাতেও একই ধরনের চাপ তৈরি হবে। কারণ ইউএইতে বিপুলসংখ্যক নারী কর্মী বেসরকারি খাতে কাজ করেন। তাদের জন্যও মাতৃত্বকালীন ছুটি বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়বে।
ইউএই সরকার বলছে, মাতৃত্বকালীন ছুটি বাড়ানোর মাধ্যমে নারীদের কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকার সুযোগ বাড়বে। অনেক নারী সন্তান জন্মের পর চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন। দীর্ঘ ছুটি তাদের আবার কর্মজীবনে ফিরতে উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে শিশুদের প্রাথমিক যত্ন ও মায়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও এটি সহায়ক হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইউএইতে নারীদের কর্মসংস্থান ও নেতৃত্বে অংশগ্রহণ বাড়াতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নারীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে আইন ও নীতিমালা সংস্কার করা হচ্ছে। মাতৃত্বকালীন ছুটি বাড়ানো সেই ধারাবাহিকতার অংশ।
তবে বেসরকারি খাতে এই সুবিধা চালু হলে প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আর্থিক চাপ বাড়তে পারে। অনেক কোম্পানি মনে করতে পারে, দীর্ঘ ছুটি তাদের উৎপাদনশীলতায় প্রভাব ফেলবে। এ জন্য সরকারকে হয়তো বিশেষ নীতিমালা বা প্রণোদনা দিতে হবে, যাতে বেসরকারি খাতও এই সুবিধা বাস্তবায়ন করতে পারে।
ইউএইতে বর্তমানে নারীরা সরকারি চাকরিতে নেতৃত্বের পদেও রয়েছেন। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি খাতে নারীদের অংশগ্রহণ ক্রমেই বাড়ছে। মাতৃত্বকালীন ছুটি বাড়ানো হলে নারীদের কর্মজীবন আরো নিরাপদ হবে এবং পরিবার ও কর্মক্ষেত্রের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা সহজ হবে।
সব মিলিয়ে, ইউএই সরকারের এই উদ্যোগ নারীদের জন্য বড় স্বস্তি নিয়ে আসছে। এখন নজর থাকবে বেসরকারি খাতের দিকে। সেখানেও একই ধরনের সুবিধা চালু হলে দেশটির নারীরা কর্মক্ষেত্রে আরো শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবেন।
logo-1-1740906910.png)