আমেরিকার ইরান জয় সহজ নয় তবু তলে তলে যুদ্ধ প্রস্তুতি ইরান-ইসরাইলেের
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:২১
ইরানে হামলা নিয়ে মহাপরাক্রমশালী ডোনাল্ড ট্রাম্প মহাশয় এক পা এগিয়ে আবার দুই পা পেছাচ্ছেন। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, আড়ালে আড়ালে যুদ্ধের প্রস্তুতি থামেনি। ইরান ও ইসরায়েল দুই পক্ষই তৈরি। যে কোনো সময় মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে দেখা যেতে পারে ক্ষেপণাস্ত্রের আলোর ঝলকানি।
কাতার ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের বিশ্লেষক স্টিভ উইটকফ বলেছেন, ইরানকে পরাস্ত করা সহজ নয়। কিন্তু কেন? কী আছে ইরানের ভৌগোলিক শক্তি আর সামরিক বাস্তবতায়?
প্রথমেই বুঝতে হবে, ইরান কোনো সাধারণ দেশ নয়। মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রে এটি বিশাল রাষ্ট্র, যার আয়তন প্রায় ১৬ লাখ বর্গকিলোমিটার। পাহাড়, মরুভূমি আর দুর্গম ভূখণ্ডে ভরা এই পারস্য দেশ। ফলে স্থলপথে দ্রুত সামরিক অভিযান এখানে প্রায় অসম্ভব। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের পাহাড়ই তার প্রাকৃতিক দুর্গ।তার পশ্চিম ও উত্তরে রয়েছে জাগ্রোস আর আলবোর্স পর্বতমালা। এই পাহাড়ের নিচেই ইরান গড়ে তুলেছে ক্ষেপণাস্ত্রের এক গোপন শহর। ইতিহাস বলছে, পাহাড়ি দেশে যুদ্ধ মানেই দীর্ঘ ব্যয়বহুল সংঘাত, যেখানে আধুনিক প্রযুক্তিও পুরোপুরি কাজে আসে না।
ইরানের আরেক বড় শক্তি হলো হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তেল এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে যায়। ইরানে সংঘাত মানেই শুধু একটি দেশের যুদ্ধ নয় বরং পুরো বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা। সামরিক কৌশলেও ইরান ভিন্ন। তারা জানে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে খোলা যুদ্ধে জেতা সম্ভব নয়। তাই ইরানের ভরসা ‘অ্যাসিমেট্রিক ওয়ারফেয়ার’ ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, নৌ-মাইন আর গেরিলা কৌশল। নীরবে শত্রুকে চাপে রাখাই তাদের কৌশল।
তারপরও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি উপেক্ষা করার মতো কোনো বিষয় নয়।
হাজার কিলোমিটার পাল্লার হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে তাদের হাতে। সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, আরব আমিরাতসহ বহু দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি এই পাল্লার মধ্যেই। তাই যুদ্ধ শুরু হলে তা সীমিত রাখা কঠিন।
শুধু ইরান নয়, তার আঞ্চলিক প্রভাবও এক বড় বাস্তবতা। লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন; একাধিক ফ্রন্টে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ কারণেই ইরানকে আলাদা করে দেখা যায় না।
তবে এটাও সত্য, ইরান এখন হয়তো ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে। দীর্ঘদিনের ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ ভেঙে পড়ছে। সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের পতন, প্রক্সি বাহিনীগুলোর দুর্বলতা, ভেনেজুয়েলায় মাদুরোর আটক; সব মিলিয়ে তেহরান অনেকটাই একা। অর্থনীতিও বিপর্যস্ত, রিয়ালের মান ইতিহাসের সর্বনিম্নে। দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে হয়েছে বিক্ষোভের মতো ঘটনা।
তবু বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান ভেতর থেকে ভেঙে পড়ার মতো রাষ্ট্র নয়। বিক্ষোভ আছে, কিন্তু নিরাপত্তা কাঠামো এখনো শক্ত। ৪৭ বছরের নিষেধাজ্ঞা আর চাপ সামলেও দেশটি টিকে আছে। তাই আমেরিকা ও ইসরায়েলের ‘সহজ জয়-এর যে ধারণা, তা বাস্তবসম্মত নয়।
ইরানের দুর্বলতা ট্রাম্পের জন্য সুযোগ তৈরি করলেও তেহরান ঘোষণা দিয়েছে, শেষ রক্তবিন্দু দিয়েও তারা টিকে থাকবে। ফলে হোয়াইট হাউসের সামনে পথটি যতটা না বিজয়ের, তার চেয়ে বেশি অনিশ্চয়তার। শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প কি কোনো বড় চুক্তিতে জয় দাবি করবেন, নাকি মধ্যপ্রাচ্য আবার ঢুকে পড়বে নতুন এক রক্তক্ষয়ী সংঘাতে, তা সময়ই বলে দেবে।
logo-1-1740906910.png)