পুরোনো শ্রমিক আবাসন সরিয়ে নতুন ওয়ার্কার্স সিটি গড়ছে কুয়েত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩২
কুয়েত সরকার রাজধানীর জেলিব আল-শুয়ুখ ও খাইতান এলাকায় বিদ্যমান পুরোনো শ্রমিক আবাসন ব্যবস্থা সরিয়ে নতুন আধুনিক ওয়ার্কার্স সিটি নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে। জনশক্তি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও সুশৃঙ্খল আবাসন নিশ্চিত করা হবে।
আরব টাইমসের প্রতিবেদন বলছে, দীর্ঘদিন ধরে জেলিব ও খাইতান এলাকায় শ্রমিকরা অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে বসবাস করছেন। এসব এলাকায় জনসংখ্যার চাপ, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, যানজট, অপরাধ এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে গেছে। কুয়েত সরকার মনে করছে, পুরোনো আবাসন ব্যবস্থা আর টেকসই নয়। তাই ধাপে ধাপে এসব এলাকা খালি করে নতুন ওয়ার্কার্স সিটি গড়ে তোলা হবে।
নতুন শহরগুলোতে শ্রমিকদের জন্য উন্নত আবাসন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিরাপদ পানীয় জল, বিদ্যুৎ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা থাকবে। একই সঙ্গে থাকবে বাজার, ক্লিনিক, বিনোদন কেন্দ্র এবং পরিবহন সুবিধা। ফলে শ্রমিকদের আর অস্বাস্থ্যকর ও অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে বসবাস করতে হবে না।
বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিপুল সংখ্যক শ্রমিক কুয়েতে কাজ করেন। তাদের জন্য এই উদ্যোগ বড় সুবিধা এনে দেবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন আবাসন ব্যবস্থা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নত করবে এবং কর্মক্ষমতা বাড়াবে। একই সঙ্গে শ্রমবাজারে শৃঙ্খলা আসবে এবং অবৈধ বসবাস কমে যাবে।
কুয়েত সরকার জানিয়েছে, নতুন ওয়ার্কার্স সিটি নির্মাণে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে বিনিয়োগ বাড়ানো হবে। ধাপে ধাপে পুরোনো আবাসন এলাকা খালি করা হবে এবং শ্রমিকদের নতুন শহরে স্থানান্তর করা হবে। এভাবে দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ও নগর পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তন আসবে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, শ্রমিকদের জন্য উন্নত আবাসন ব্যবস্থা তৈরি হলে তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমবে এবং উৎপাদনশীলতা বাড়বে। পাশাপাশি স্থানীয় নাগরিকদের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হবে। পুরোনো আবাসন এলাকা পুনঃউন্নয়ন করে শহরের অবকাঠামো আরো শক্তিশালী করা যাবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, জেলিব ও খাইতান এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জনসংখ্যার চাপ ও অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছিল। নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এসব সমস্যা কমে আসবে।
logo-1-1740906910.png)