কুয়েতে ওয়ার্ক ভিসা থেকে ফ্যামিলি ভিসায় রূপান্তরের নিয়ম
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩১
কুয়েতে কর্মরত প্রবাসীদের জন্য নতুন করে পরিবার ভিসায় রূপান্তরের সুযোগ তৈরি হয়েছে। জনশক্তি কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি জানিয়েছে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে কর্মীরা তাদের ওয়ার্ক ভিসা পরিবর্তন করে ফ্যামিলি ভিসায় যেতে পারবেন। এই উদ্যোগের ফলে প্রবাসীরা পরিবারকে সঙ্গে রাখার সুযোগ পাবেন এবং দীর্ঘমেয়াদে কুয়েতে বসবাস আরো সহজ হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম আরব টাইমস বলছে কুয়েতের আইন অনুযায়ী, ওয়ার্ক ভিসায় কর্মরত শ্রমিকরা সাধারণত চাকরির সঙ্গে যুক্ত থাকেন এবং তাদের ভিসা নিয়োগকর্তার স্পন্সরশিপে পরিচালিত হয়। তবে পরিবারকে সঙ্গে রাখতে হলে ফ্যামিলি ভিসা প্রয়োজন। এজন্য কর্মীদের নির্দিষ্ট আয়ের প্রমাণ, বৈধ চাকরির চুক্তি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হয়।
জনশক্তি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফ্যামিলি ভিসায় রূপান্তরের জন্য আবেদনকারীর বৈধ সিভিল আইডি, চাকরির প্রমাণপত্র, বেতন সনদ, পাসপোর্ট, স্বাস্থ্যবীমা এবং মেডিকেল রিপোর্ট জমা দিতে হবে। এসব নথি যাচাইয়ের পর কর্তৃপক্ষ অনুমোদন দেবে। আবেদন প্রক্রিয়া এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও করা যাবে, যা সময় ও খরচ সাশ্রয় করবে।
কুয়েতে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী শ্রমিক কাজ করেন, যাদের মধ্যে বাংলাদেশি শ্রমিকরাও অন্যতম। তাদের জন্য এই নিয়ম বড় সুবিধা এনে দিয়েছে। আগে পরিবারকে সঙ্গে রাখতে হলে আলাদা ভিসার জন্য আবেদন করতে হতো, যা সময়সাপেক্ষ ছিল। এখন ওয়ার্ক ভিসা থেকে সরাসরি ফ্যামিলি ভিসায় রূপান্তরের সুযোগ থাকায় প্রবাসীরা পরিবারকে সহজে সঙ্গে রাখতে পারবেন।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ শ্রমিকদের জীবনমান উন্নত করবে এবং তাদের কর্মক্ষমতা বাড়াবে। কারণ পরিবারকে সঙ্গে রাখার সুযোগ থাকলে প্রবাসীরা মানসিকভাবে আরো স্বস্তি পাবেন। একই সঙ্গে কুয়েতের শ্রমবাজারে স্থিতিশীলতা আসবে।
কুয়েত সরকার বলছে, নতুন নিয়মে পরিবার ভিসায় রূপান্তরের সুযোগ দেওয়া হলে প্রবাসীরা দীর্ঘমেয়াদে দেশে থাকতে উৎসাহিত হবেন। এতে শ্রমবাজারে দক্ষ জনবল ধরে রাখা সম্ভব হবে। পাশাপাশি অবৈধ ভিসা ব্যবহার কমে আসবে।
বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্যও এটি ইতিবাচক খবর। কারণ অনেক শ্রমিক দীর্ঘদিন ধরে পরিবার থেকে দূরে থাকেন। নতুন নিয়মে তারা পরিবারকে সঙ্গে রাখতে পারবেন। এতে সামাজিক স্থিতিশীলতা বাড়বে এবং প্রবাসী শ্রমিকদের প্রতি আস্থা আরো দৃঢ় হবে।
জনশক্তি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ধাপে ধাপে আরো সেবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা হবে। যেমন চাকরির চুক্তি যাচাই, নিয়োগকর্তার রেকর্ড দেখা এবং অনলাইন অভিযোগ ব্যবস্থা। এর ফলে শ্রমিকরা আরো স্বচ্ছ ও নিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে পারবেন।
logo-1-1740906910.png)