বাংলাদেশিদের জন্য অন্যতম শ্রমবাজার সৌদি আরবে অবৈধ প্রবাসীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। সদ্য সমাপ্ত বছরে দেশটিতে গেছেন সাত লাখের বেশি কর্মী। বিপরীতে গত দুই বছরে প্রায় এক লাখ বাংলাদেশি শ্রমিককে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক অনুসন্ধান ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠতে পারে। এখন টিভির বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
কক্সবাজারের খোরশেদ আলমের মতো অনেক শ্রমিক দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। মৌখিক চুক্তি অনুযায়ী কাজ না পেয়ে অন্যত্র ভিসা নবায়ন করতে গিয়ে মাসিক কমিশন দিতে হয়। অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে ভিসা বাতিল, জেল-জরিমানা এবং দেশে ফেরার মতো দুর্ভাগ্য বরণ করতে হয়।
২০২৫ সালে বিদেশে গেছেন প্রায় ১১ লাখ ২৬ হাজার কর্মী, এর মধ্যে সৌদি আরবে গেছেন ৭ লাখ ৫১ হাজারের বেশি। রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রেও সৌদি প্রবাসীরা এগিয়ে। জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত দেশটি থেকে এসেছে ২০৫ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স। তবে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসা দেশটির শ্রমবাজারও টেকসই হচ্ছে না। তিন মাসের ইকামা নবায়নের ফাঁদে পড়ে বহু শ্রমিক নিঃস্ব হচ্ছেন।
ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের ব্যবস্থাপক আল আমিন নয়ন বলেন, সৌদি আরব থেকে ফিরে আসা শ্রমিকদের অভিজ্ঞতা নীতিনির্ধারকদের শোনা উচিত। রিক্রুটিং এজেন্সির গাফিলতির কারণে যদি শ্রমিকরা ফেরত আসেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ শরিফুল হাসান বলেন, রাতারাতি কিছু কোম্পানি গজিয়ে উঠছে, যারা চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে শ্রমিক পাঠাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে কাজ না পেয়ে সাধারণ মানুষ সর্বস্বান্ত হচ্ছে। রাষ্ট্রের উচিত এ বিষয়ে অনুসন্ধান করা এবং দূতাবাস ও মন্ত্রণালয়ের কার্যকর ভূমিকা রাখা।
শ্রমিক প্রেরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, স্বজনদের মাধ্যমে পাওয়া ভিসাগুলোতে ঝুঁকি বেশি। যদিও সৌদি যাওয়ার আগে এখন তাকামল পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। বায়রার সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান মনে করেন, রিক্রুটিং এজেন্সি ও কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানো জরুরি। তাকামল প্রক্রিয়া সহজ না হলে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।
সৌদি আরবের বাংলাদেশ দূতাবাস এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলেছেন, যৌথ উদ্যোগ না নিলে শ্রমবাজারের অস্থিরতা বড় ধরনের মানবিক সংকটে রূপ নিতে পারে।
logo-1-1740906910.png)