নতুন বছরের শুরুতেই সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্ক বড় ধরনের রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এক সময়ের ঘনিষ্ঠ উপসাগরীয় মিত্র দুই দেশ এখন প্রকাশ্য প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠছে। তেল উৎপাদন থেকে শুরু করে সুদান যুদ্ধ পর্যন্ত নানা ইস্যুতে মতবিরোধ থাকলেও এত দিন তা প্রকাশ্যে আসেনি। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালে সেই বিরোধ আর আড়ালে থাকছে না।
মঙ্গলবার সৌদি আরব ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরী আল মুকাল্লায় বোমা হামলা চালায়। রিয়াদের দাবি, সেখানে আমিরাত-সমর্থিত সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের কাছে অস্ত্রের চালান যাচ্ছিল। সৌদি আরব প্রকাশ্যে অভিযোগ তোলে যে আমিরাতের আচরণ বিপজ্জনক এবং তা সৌদি নিরাপত্তার জন্য হুমকি। আমিরাত পাল্টা অভিযোগ করে, সৌদি ভিত্তিহীন তথ্য ছড়াচ্ছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত অঞ্চলজুড়ে আধা সামরিক ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন করছে। অন্যদিকে সৌদি আরব বিদ্যমান সীমান্ত ও রাষ্ট্র কাঠামো টিকিয়ে রাখতে রাজনৈতিক জোট গঠনে মনোযোগ দিচ্ছে। বেকার ইনস্টিটিউটের গবেষক ক্রিস্টিয়ান উলরিখসেন বলেন, বহু বছর ধরে দুই দেশের কৌশলগত পার্থক্য ছিল, কিন্তু সেগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যবস্থা আর কাজ করছে না।
গত মাসে মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে উঠে আসে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে লবিং করার পরিকল্পনা করেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল আমিরাতের র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে সমর্থনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। যেখানে আমিরাত আধাসামরিক বাহিনীকে সমর্থন করছে, সেখানে সৌদি আরব সুদানের সেনাবাহিনীর পাশে দাঁড়িয়েছে।
ইয়েমেনে দুই দেশই হুতিদের বিরোধিতা করছে এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে আমিরাত দীর্ঘদিন ধরে সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলকে সমর্থন দিয়ে আসছে। চলতি মাসে এই গোষ্ঠী দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে। এরপরই সৌদি আরব হামলা চালায়।
আমিরাত বড় আকারের প্রক্সি বাহিনী মোতায়েন করতে সক্ষম হলেও সৌদি আরবের শক্তি অন্য জায়গায়। আন্তর্জাতিক বৈধতা, অর্থনৈতিক প্রভাব এবং অতীত অভিজ্ঞতা সৌদি আরবকে এগিয়ে রাখছে। রিয়াদ এখন বড় সামরিক অভিযানের বদলে সীমিত চাপ প্রয়োগ ও রাজনৈতিক ফল অর্জনের কৌশল নিচ্ছে।
দুই দেশের মধ্যে বিভাজনের আরেকটি বড় ক্ষেত্র হলো ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক। ২০২০ সালে আবুধাবি ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। সৌদি আরব এখনও সেই পথে হাঁটেনি। ফলে উপসাগরীয় শক্তিগুলোর মধ্যে নতুন বিভাজন তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন দ্বন্দ্বের রেখাগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে শেষ বড় ধরনের বিভেদের সময় সৌদি আরব ও আমিরাত একই শিবিরে ছিল। তবে সেই বাস্তবতা বদলে গেছে। মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—এই সংঘাত কীভাবে সামাল দেওয়া হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি কোন পথে যাবে।
logo-1-1740906910.png)