ইরানে চলমান অর্থনৈতিক সংকট ও মুদ্রা রিয়ালের দরপতনের জেরে দেশজুড়ে বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। ৩১ ডিসেম্বর রাত থেকে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন প্রদেশে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে।
গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের খোলাবাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের মান রেকর্ড সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছায়। এর পরপরই রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্ষোভ ও ধর্মঘট শুরু হয়। দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়, সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে আসে।
হতাহতের ঘটনা
- লরদেগান শহর: ফারস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন। মানবাধিকার সংস্থা হেংগাও বলছে, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে আরো কয়েকজন নিহত ও আহত হয়েছেন।
- কুহদাশত শহর: ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তাদের সহযোগী বাসিজ আধাসামরিক বাহিনীর একজন সদস্য নিহত হয়েছেন এবং আরো ১৩ জন আহত হয়েছেন।
- ইসফাহান প্রদেশ: একজন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে হেংগাও।
১ জানুয়ারি দক্ষিণাঞ্চলীয় ফারস প্রদেশের মারভদাস্ত শহরেও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া পশ্চিমাঞ্চলীয় কেরমানশাহ, খুজেস্তান ও হামেদান প্রদেশে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে।
আইআরজিসি দাবি করেছে, বিক্ষোভকারীরা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে সহিংসতায় পরিণত করেছে। তারা বলছে, এই সহিংসতার দায় বিক্ষোভকারীদেরই নিতে হবে। তবে স্বাধীন সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, এসব ঘটনার সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইরানে দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক সংকট চলছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মুদ্রাস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। রিয়ালের দরপতন পরিস্থিতিকে আরো জটিল করেছে। এর ফলে জনগণের ক্ষোভ রাস্তায় বিক্ষোভে রূপ নিয়েছে।
logo-1-1740906910.png)