বাহরাইনে পর্যটন খাতে তিন বছরে আয় বেড়েছে ২৭ শতাংশ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৩:৫০
বাহরাইনের পর্যটন খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে। ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তিন বছরে দেশটির পর্যটন আয় বেড়েছে প্রায় ২৭ শতাংশ। এই প্রবৃদ্ধি বাহরাইনকে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম জনপ্রিয় ভ্রমণ গন্তব্যে পরিণত করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বাহরাইনের পর্যটনমন্ত্রী ফাতিমা আল সাইরাফির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটির মোট জিডিপির ৬.৯ শতাংশ অবদান রাখছে পর্যটন খাত, যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
সরকারের কৌশলগত পরিকল্পনা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগই এই সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি বলে মনে করা হচ্ছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে বাহরাইনের ভৌগোলিক অবস্থান, সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা দেশটিকে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে আরো আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
বাহরাইনে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন সমুদ্রসৈকত, বিলাসবহুল রিসোর্ট ও আধুনিক হোটেল। পাশাপাশি ঐতিহাসিক নিদর্শন যেমন বাহরাইন ফোর্ট, বাহরাইন ন্যাশনাল মিউজিয়ামসহ নানা স্থাপনা পর্যটকদের টানছে। দেশটিতে গড়ে উঠেছে আধুনিক শিল্পকলা গ্যালারি, থিয়েটার ও সংগীত উৎসব, যা আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আগ্রহ বাড়াচ্ছে। উচ্চমানের শপিং মল ও রেস্টুরেন্ট বাহরাইনকে ব্যবসায়ী ও অবকাশ যাপনকারী পর্যটকদের জন্য জনপ্রিয় গন্তব্যে পরিণত করেছে।
পর্যটন খাতের এই প্রবৃদ্ধির পেছনে সরকার ও বেসরকারি খাতের যৌথ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বাহরাইন ট্যুরিজম অ্যান্ড এক্সিবিশনস অথরিটি (বিটিইএ) আন্তর্জাতিক বিপণন কার্যক্রম ও বৈশ্বিক ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাহরাইনকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরছে। বৈশ্বিক ট্রাভেল প্ল্যাটফর্ম উইগোর (Wego) সঙ্গে অংশীদারিত্বের ফলে উপসাগরীয় পর্যটন বাজারে বাহরাইনের দৃশ্যমানতা আরো বেড়েছে।
এছাড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ, নতুন হোটেল ও রিসোর্ট নির্মাণ এবং সাংস্কৃতিক ভেন্যু উন্নয়নে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে সরকার। এসব উদ্যোগ পর্যটকদের জন্য আরামদায়ক ও স্মরণীয় অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করছে।
বাহরাইনের পর্যটন ক্যালেন্ডারে রয়েছে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক মানের আয়োজন। বাহরাইন গ্র্যান্ড প্রিক্স, বাহরাইন ইন্টারন্যাশনাল এয়ার শোসহ নানা ইভেন্ট প্রতি বছর হাজারো বিদেশি পর্যটক আকর্ষণ করে। অনেক পর্যটক এসব আয়োজনকে কেন্দ্র করেই বাহরাইনে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন।
তেলনির্ভরতা কমিয়ে অর্থনীতি বহুমুখীকরণের কৌশলে পর্যটন এখন বাহরাইনের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। এই খাত থেকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে এবং হোটেল, পরিবহন, খুচরা বাণিজ্য ও বিনোদন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। পর্যটনমন্ত্রী ফাতিমা আল সাইরাফি জানান, প্রতি বছর পর্যটকের সংখ্যা ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হারে বাড়ছে, যা ভবিষ্যতের জন্য আশাব্যঞ্জক।
২০৩০ সালের মধ্যে ৩ কোটি পর্যটক আকর্ষণের লক্ষ্য নিয়ে দেশটি এগিয়ে যাচ্ছে, আর এই যাত্রায় পর্যটন খাতই হতে যাচ্ছে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি।
logo-1-1740906910.png)