Logo
×

Follow Us

মধ্যপ্রাচ্য

কুয়েতে বাংলাদেশি শ্রমবাজার

সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ

আ হ জুবেদ, কুয়েত

আ হ জুবেদ, কুয়েত

প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৭:০৭

সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ

​কুয়েতের শ্রমবাজারে একসময় বাংলাদেশি কর্মীদের আধিপত্য থাকলেও বর্তমানে সেই অবস্থান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার আগে যেখানে মাত্র ৪০-৪৫ জন বাঙালি কুয়েতে ছিলেন, স্বাধীনতার পর সেই সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বেড়ে ২০১৯ সালে প্রায় সাড়ে তিন লাখে উন্নীত হয়েছিল। কিন্তু বৈশ্বিক করোনা মহামারির ধাক্কায় কর্মী সংখ্যা তিন লাখের নিচে নেমে আসে। বর্তমানে ভিসা প্রক্রিয়া কিছুটা সহজ হওয়ায় সংখ্যাটি তিন লাখ ছাড়ালেও দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে কুয়েতে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই শ্রমবাজার গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করেছে 'বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব কুয়েত'। 

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) কুয়েতের আবু-হালিফা রিসোর্টে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রবাসে দেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং শ্রমবাজারের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি ও স্থানীয় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

​প্রেস ক্লাব কুয়েতের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল-আমিন রানার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আ হ জুবেদের সঞ্চালনায় এ সভায় কুয়েতের বিভিন্ন কমিউনিটি নেতা ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা অংশ নেন। সভায় বক্তারা বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করে বলেন, আধুনিক শ্রমবাজারে অদক্ষ শ্রমিকের চাহিদার চেয়ে কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন জনশক্তির কদর অনেক বেশি। ভিসা বাণিজ্যের নেতিবাচক প্রভাব কাটিয়ে উঠতে এবং দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ সচল রাখতে প্রবাসীদের আরো বেশি সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।

বিশেষ করে কুয়েতের স্থানীয় শ্রম আইন কঠোরভাবে মেনে চলা এবং যে কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সব প্রবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা মনে করেন, অন্য দেশের কর্মীরা যে হারে বাজার দখল করছে, তার পেছনে মূল কারণ হলো তাদের দক্ষতা এবং কর্মক্ষেত্রে সুশৃঙ্খল আচরণ।

​সভায় বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন কমিউনিটি নেতা আব্দুল হাই ভুইয়া, আবুল বাশার, সারোয়ার আলম, তৌহিদুল আলম চৌধুরী, মো. কামাল হোসেন এবং সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট সাইফুল ইসলাম। নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন, "আমাদের কর্মীদের শুধু সংখ্যায় বাড়ালে চলবে না, তাদের কাজের গুণগত মান বাড়াতে হবে। কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মী পাঠাতে পারলে কুয়েতের উচ্চপদস্থ ও কারিগরি সেক্টরগুলোতে বাংলাদেশিরা আবারো শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে।" সাংবাদিক নেতাদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন মো. হেবজু মিয়া, সাদেক রিপন, আহাদ আম্বিয়া খোকন, আলাল আহমদ ও মোয়াজ্জেম হোসেনসহ আরো অনেকে। তারা প্রবাসীদের সমস্যা ও সম্ভাবনা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের জোরালো ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন এবং দূতাবাস ও সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধির দাবি জানান।

Logo