কুয়েত সম্প্রতি ইমিগ্রেশন নীতিমালায় বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে।যার প্রভাব পড়বে কুয়েতে কাজ করা প্রবাসী কর্মী, শ্রমিকদের জীবনে। কুয়েতে কাজ করা প্রবাসী কর্মী-শ্রমিকদের কাজের নিরাপত্তা, ভিসা ট্রান্সফার ও যাতায়াতে বড় প্রভাব পড়বে। নতুন পরিবর্তনে বেশ কিছু সুবিধা পেতে পারেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। আবার কিছু কিছু বিষয়ে সতর্ক না থাকলে ঝুঁকি বাড়তে পারে।
দীর্ঘমেয়াদি ভিসা
বৈধ প্রবাসীরা এখন থেকে ক্ষেত্র বিশেষে ৫ থেকে ১৫ বছরের রেসিডেন্সি সুবিধ পাবেন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, দেশটিতে বসবাসকারী সাধারণ প্রবাসীরা সর্বোচ্চ ৫ বছরের রেসিডেন্সি নবায়ন করতে পারবেন। একই সঙ্গে তাদের কুয়েতে জন্ম নেওয়া সন্তান বা দেশটিতে নিজস্ব সম্পত্তির মালিক হলে তারা নবায়ন করতে পারবেন ১০ বছরের জন্য। আর বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য রয়েছে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের রেসিডেন্সি সুবিধা।
ভিসা ফি বেড়েছে:
প্রতিটি ভিজিট ভিসার জন্য মাসিক ১০ কুয়েতি দিনার ফি ধার্য করা হয়েছে। ট্রানজিট ভিসা, যানবাহনের চালকদের প্রবেশ ভিসা এবং জরুরি প্রবেশ ভিসার ক্ষেত্রেও ১০ দিনার ফি দিতে হবে। আবেদনকারীর অবস্থান ও উদ্দেশ্য অনুযায়ী রেসিডেন্সি পারমিটের ফি ভিন্ন হবে। সাধারণত ২০ দিনার থেকে শুরু করে ৫০ দিনার পর্যন্ত ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে যারা নিজেরাই স্পন্সর হয়ে রেসিডেন্সি নিতে চান, তাদের জন্য ফি হবে ৫০০ দিনার। স্ত্রী বা সন্তানকে কুয়েতে আনার ভিসা ফি হবে ২০ দিনার। স্ত্রী বা সন্তান বাদে আত্মীয়স্বজনদের কুয়েতে আনতে চাইলে তবে ভিসা ফি দিতে হবে ৩০০ দিনার।
ফ্যামিলি ভিসার কন্ডিশন
নতুন আইনে প্রবাসী কর্মীদের ফ্যামিলি ভিসা আবেদনের জন্য বেতন ৮০০ কুয়েতি দিনার হতে হবে। তবে বিদেশি কর্মী যদি কুয়েত অবস্থান করেন, তাদের পাঁচ বছর বয়সী সন্তান যদি কুয়েতের বাইরে থাকে অথবা সন্তানাদি যদি কুয়েতে জন্ম নিয়ে থাকে, তাহলে বেতনের সীমা থাকলেও ভিসার আবেদন গ্রহণ বা ভিসা পেতে পারেন পরিবারের সদস্যরা। এছাড়া প্রফেসর, ইঞ্জিনিয়ার, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও হাফেজ, মেডিকেল ও স্বাস্থ্যকর্মী, সাংবাদিক, খেলোয়াড়, মৃতদের সৎকারের কাজে যুক্ত থাকা ব্যক্তিদের বেলায় এই নিয়মের ব্যতিক্রম হতে পারে।
ভিজিট ভিসা থেকে রেসিডেন্সি ভিসায় পরিবর্তন
নতুন নিয়মে পাঁচটি ক্ষেত্রে ভিজিট ভিসা থেকে রেসিডেন্সি ভিসায় পরিবর্তন করা যাবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। যেমন- যারা গভর্নমেন্ট ভিজিট ভিসা হোল্ডার, গৃহকর্মী বা এসব কাজের ভিসা হোল্ডার, ফ্যামিলি ভিজিট ভিসা, ওয়ার্ক ভিসায় বিশেষ বিশেষ শর্তে ভিসা পরিবর্তন সম্ভব বলে জানাচ্ছে আরব টাইমস। এমন আইন প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাজের ক্ষেত্রে সুবিধা এনে দিতে পারে।
বৈধ রেসিডেন্সি থাকলেও বহিষ্কার হতে পারেন
রেসিডেন্সি পারমিট বৈধ থাকলেও তিন কারণে কুয়েত যে কোনো প্রবাসীকে দেশটি থেকে বহিষ্কার করতে পারে। যেমন
১. যদি প্রবাসীর কুয়েতে কোনো বৈধ ইনকাম না থাকে।
২. যদি কোনো প্রবাসী তার নিয়োগকর্তা অনুমতির বাইরে গিয়ে কোথাও কাজ করেন।
৩. বৈধ রেসিডেন্সি পারমিট থাকা প্রবাসীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের মামলা হয় অথবা কোনো নৈতিক অধপতনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়।
কুয়েতে আছেন সাড়ে তিন লাখের বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি। প্রতি বছর দেশটি থেকে আসে কমপক্ষে ৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স। তাদের উপার্জিত অর্থে বেঁচে থাকে দেশে থাকা প্রবাসীর পরিবার ও স্বজন। তাই কুয়েতের সাম্প্রতিক ইমিগ্রেশনের পরিবর্তন জানা, ভিসা বা পারমিট পরিবর্তনের বিষয়ে দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সাহায্য নেওয়া, অভিজ্ঞজনের পরামর্শ নেওয়া এবং সর্বোপরি দেশটির আইন মেনে চলাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন কুয়েতে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
logo-1-1740906910.png)