বন্যার ক্ষয়ক্ষতি রোধে বাঁধ নির্মাণের দাবি ওমানের কৃষকদের
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:২২
ওমানের কৃষকরা বারবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সরকারের কাছে আরো বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, বন্যা প্রতিরোধ ব্যবস্থা দ্রুত না বাড়ালে কৃষিজমি ও জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অ্যারাবিয়ান গালফ নিউজ ইনসাইট এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
গত কয়েক বছরে ওমানে বন্যার প্রকোপ বেড়েছে। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে ভয়াবহ বন্যায় ১৯ জন নিহত হন, যার মধ্যে ১২ জন শিশু ছিল। উত্তর আল শারকিয়ায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটে। এর আগে ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় গোনুতে ৫০ জন নিহত হয় এবং প্রায় ৪.২ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে নেমে আসা পানির স্রোতে গাড়ি ভেসে যাচ্ছে, মানুষ প্রাণ বাঁচাতে দৌড়াচ্ছে। কৃষকরা বলছেন, এ ধরনের বন্যা তাদের ফসল ও জমি ধ্বংস করে দেয়।
উত্তর বাতিনাহ অঞ্চলের কৃষক মুখতার আল সালমি বলেন, “শিনাস এলাকায় প্রায় এক-চতুর্থাংশ খামার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, দ্রুত সুরক্ষা ব্যবস্থা বাড়ানো হোক, কারণ আমাদের জীবিকা নির্ভর করে ফসলের ওপর।”
ওমানের কৃষি, মৎস্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৬০% এলাকা বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে। রাজধানী মাসকাটের প্রায় ৪৫% এলাকা পাহাড়ি নদী বা ‘ওয়াদি’র কারণে বন্যার ঝুঁকিতে আছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভারী বৃষ্টিপাত আরো বাড়বে বলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) সতর্ক করেছে।
ওমান সরকার ইতোমধ্যে ২০০টি বাঁধ নির্মাণ করেছে। এর মধ্যে ৭৬টি ভূগর্ভস্থ পানি পুনর্ভরণ বাঁধ, ১১৭টি পৃষ্ঠস্থ পানি সংরক্ষণ বাঁধ এবং ৭টি বন্যা প্রতিরোধ বাঁধ রয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ইউসুফ আল মানথেরি জানিয়েছেন, এসব বাঁধ দেশের দীর্ঘমেয়াদি পানি ব্যবস্থাপনা কৌশলের অংশ, যা পানি সরবরাহ বাড়ানো, বন্যার ঝুঁকি কমানো এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সহায়তা করছে।
চলতি বছর আরো ৪টি নতুন বাঁধ নির্মাণ শুরু হয়েছে, যার খরচ প্রায় ৬৩০ মিলিয়ন ডলার। সৌদি আরবভিত্তিক ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এই প্রকল্পে অর্থায়ন করছে। এর মধ্যে দুটি বাঁধ মাসকাটে এবং দুটি বাতিনাহ অঞ্চলের শিনাস ও সাহামে নির্মিত হচ্ছে। এছাড়া মাসকাটের ওয়াদি আদাই এলাকায় একটি বাঁধ এ বছরের শেষ নাগাদ সম্পন্ন হওয়ার কথা।
গত ১০ বছরে ওমান বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, সেতু ও সম্পত্তি মেরামতে প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। অর্থমন্ত্রী সুলতান আল হাবসি জানিয়েছেন, সরকার বন্যাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে ঝুঁকির মানচিত্র তৈরি করছে এবং সুরক্ষা কৌশল প্রণয়ন করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বন্যা প্রতিরোধে বাঁধ নির্মাণ জরুরি হলেও কৃষি সেচ ব্যবস্থার জন্য পর্যাপ্ত পানি নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। নিজওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পানি প্রকৌশলী হাসান আল-তোকি বলেন, “বাঁধ নির্মাণে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যেন ফালাজ সেচ ব্যবস্থায় পানি সরবরাহ ব্যাহত না হয়।"
logo-1-1740906910.png)