Logo
×

Follow Us

মধ্যপ্রাচ্য

আসছে শীত; ভয়াবহ পরিস্থিতির শঙ্কায় গাজাবাসী

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:২৯

আসছে শীত; ভয়াবহ পরিস্থিতির শঙ্কায় গাজাবাসী

ইসরায়েলি হামলায় বিধ্বস্ত গাজায় শীতকালে মানবিক সংকট আরো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা। চলমান সংঘর্ষে হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। খাবার, পানি, ওষুধ এবং চিকিৎসা সেবার তীব্র সংকটের মধ্যে শীতের ঠান্ডা পরিস্থিতিকে ‘মরণফাঁদ’ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক বলেন, “গাজায় এখনকার পরিস্থিতি ভয়াবহ ও অমানবিক। শীতকালে তা আরো বিপজ্জনক হয়ে উঠবে”। তিনি জানান, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের জন্য শীতকালীন প্রস্তুতি একেবারেই নেই, যা মৃত্যুহার বাড়াতে পারে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগসহ নানা সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। চিকিৎসা সরঞ্জাম ও বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতালগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। অনেক রোগী চিকিৎসা না পেয়ে মারা যাচ্ছেন।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, ইসরায়েলি অবরোধের কারণে গাজায় ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। সীমান্তে আটকে আছে শত শত ত্রাণবাহী ট্রাক। জাতিসংঘের ত্রাণ সংস্থা UNRWA জানিয়েছে, তাদের গুদামে খাদ্য ও ওষুধের মজুত প্রায় শেষ হয়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতকালে তাপমাত্রা কমে গেলে শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হবে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নেই পর্যাপ্ত কম্বল, উষ্ণ পোশাক বা হিটার। ফলে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

এদিকে, আন্তর্জাতিক মহল গাজায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও সংঘর্ষ থামার কোনো লক্ষণ নেই। জাতিসংঘ ও রেড ক্রসসহ বিভিন্ন সংস্থা অবিলম্বে মানবিক করিডোর খুলে ত্রাণ সরবরাহের দাবি জানিয়েছে।

গাজার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, “শীত আসার আগেই যদি যুদ্ধ না থামে, তাহলে এটি হবে গাজার মানুষের জন্য এক ভয়াবহ বিপর্যয়।”

Logo