Logo
×

Follow Us

মধ্যপ্রাচ্য

বিদেশীদের সাথে মিশতে গেলে যা আপনাকে জানতে হবে

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৮:৪৬

বিদেশীদের সাথে মিশতে গেলে যা আপনাকে জানতে হবে

বিদেশে গিয়ে আমরা অনেক সময় ভিনদেশী মানুষদের সাথে মিশতে চাই। আগ্রহ দেখাই।বিদেশীরাও কিন্তু তাই।তাদেরও ভীনদেশী মানুষের সাথে কথা বলতে চান, মিশতে চান।  

প্রবাসে পথে ঘাটে, কাজের জায়গায়, বাসা বাড়ির দাওয়াতে, দোকানপাটে, বাজার  সদাইয়ে বিদেশীদের সাথে আপনার পরিচয় হবে। একেক দেশের মানুষের আচার  আচরণ খ‍্যাদ‍্যাভাস একেক রকম। পোশাক পরিচ্ছদ, গায়ের রং, রীতি নৈতিকতা ভিন্ন ভিন্ন। ফলে আপনার আচার আচরণ কিংবা তাদের আচার ব‍্যবহার ভিন্ন হবে এটাই স্বাভাবিক। 

আপনি যদি নিউইয়র্কের ম‍্যানহ‍্যাটন যান, চলতি পথে নানা দেশের মানুষ দেখতে পাবেন। জাতিতে তারা কেউ মধ‍্যপ্রাচ‍্যের, কেউ দক্ষিণ আমেরিকান, কেউ ভারতীয়, চাইনিজ। একেক দেশের মানুষের আচার আচরণে পার্থক‍্য থাকলেও, মোটা দাগে কিছু কিছু বিষয় পৃথিবীর সব দেশের মানুষ পছন্দ একই রকম। মন্দ লাগা বা যা তারা পছন্দ করে না সেগুলো কাছাকাছি। ফলে প্রথম প্রথম যারা বিদেশ মাবেন, কোন দেশের কী অপছন্দ করে তা জানা থাকলে,  বিদেশীদের সাথে বন্ধুত্ব করা, কাজ করা, সামাজিকতা করা সহজ হয়। 

যদি মিডল ইস্টে যান তবে…

ধর্মীয় বিষয়ে আলোচনা, সমালোচনা থেকে দূরে থাকুনঃ 

১। মধ‍্যপ্রাচ‍্যের মানুষ বন্ধুবৎসল, অতিথি পরায়ণ। তারা ধর্মপ্রাণ। মধ‍্যপ্রাচ‍্যের মুসলিমরা বিশ্বের অন‍্যান‍্য প্রান্তের মুসলমানদের পছন্দ করে। ইসলাম ধর্মের সমালোচনা, ভিন্ন দৃষ্টিতে ব‍্যাখ‍্যা করাকে ভীষণ অপরাধ বলে গন‍্য করা হয়। ইসলাম ধর্ম, হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) সম্পর্কে শ্রদ্ধা সম্মান তারা পছন্দ করেন। 

২। পাবলিক প্লেসে প্রিয়জনকে ভালোবাসা দেখানো, জড়িয়ে ধরা কিংবা কিস করা এসব তারা পছন্দ করে না।  

৩। খোলামেলা পোষাক পড়া পছন্দ করেনা। মধ‍্যপ্রাচ‍্যের অনেক দেশে তা আইনত নিষিদ্ধ যেমন সৌদি আরব, ইরান। খোলামেলা পোষাক পরাকে অসম্মানজনক বলে মনে করা হয়।

৪।  কাউকে বাম হাতে কোন কিছু দেয়া। বাম হাত অপরিচ্ছন্ন বলে মনে করা হয়। 

৫। কাউকে জুতার সোল দেখানোকে অপমানজনক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 

৬। কারো আতিথিয়তা গ্রহণ না করাকে অপমানজনক হিসেবে গণ‍্য করা, বিশেষত কেউ যদি আপনাকে চা কফি অফার করলে হ‍্যাঁ বলাই ভদ্রতা বলে মনে করা হয়। বিপরীতে যিনি আতিথিয়তা দেখান তিনি অপমানিত হতে পারেন। 

৭। পরিবারের পুরুষদের কাছে স্ত্রী বা নারীদের সম্পর্কে কোন জানতে চাওয়া বা খোঁজখবর করাকে ভালো চোখে দেখা হয় না। 

৮। উচ্চস্বরে কথা বলা, রাজনৈতিক আলাপ করা, ক্ষমতাসীনদের সম্পর্কে নেতিবাচক মতামত সেনসেটিভ বলে মনে করা হয়। 

৯। কারো সাথে দেখা হলে আগে হ‍্যান্ডশেক করতে হাত না বাড়ানো। অতিথি হাত বাড়ালে কেবল তখনই হ‍্যান্ডশেক করা উচিৎ এবং সেটার সময় ২-৩ সেকেন্ডের মধ‍্যে তা শেষ করা। 

পশ্চিমা দেশে গেলে যা মনে রাখা ভালো…

১। ব‍্যাক্তিগত আলাপের সময়, ব‍্যাক্তিগত বিষয় আশয়ে প্রশ্ন না করা। বিশেষত ব‍্যাক্তিগত তথ‍্য, পরিবার সম্পর্কিত প্রশ্ন এড়িয়ে চলা ভালো। যেমন কোথায় থাকেন, বিয়ে শাদি করেছেন কিনা, বউ কী করে? শিশুরা কোন স্কুলে পড়ে? এমন সব প্রশ্ন প্রথম পরিচয়ের সময় এড়িয়ে চলা ভালো। পশ্চিমা দেশগুলোর মানুষ ব‍্যাক্তিগত তথ‍্য জানাতে আগ্রহী হন না। এই বিষয়টি মাথায় রেখে আলাপচারিতা করা যেতে পারে। 

২। পাবলিক প্লেসে জোরে কথা বলা পছন্দ করা হয় না। বিশেষত রেস্টুরেন্ট, বাস, ট্রাম, টেইন ও মেট্রোতে। মানুষ বিরক্ত হন। ফলে এসব স্থানে নিরিবিলি থাকার ভদ্রতা বলে গণ‍্য করা হয়। 

৩। কোথাও কোন কিউ বা লাইন দাঁড়ানো থাকলে কাউকে ডিঙিয়ে যাওয়াকে অসম্মানজনক বলে মনে করা হয়। 

৪। ব‍্যাক্তিগত পরিচ্ছন্নতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। মুখ, গা বা জামা কাপড় থেকে গন্ধ বেরোয় কিনা তা পরীক্ষা করা উচিত। মুখ না ঢেকে হাঁচি দেয়াকে মন্দ ভাবা হয়। 

৫। অনেক দেশে দরদাম করা নিত‍্য দিনের চর্চা। কিন্তু পশ্চিমা দেশে বেশি দরদাম ভালো চোখে দেখা হয় না। 

৬। কাউকে থামিয়ে দিয়ে কথা বলা, কারো কথার ওপর কথা বলা ভালো চোখে দেখা হয় না। বরং অন‍্যের কথা শেষ হবার অপেক্ষা করা, কথা শেষ হলে, নিজের অবস্থান জানানো। 

৭। সকাল কাজের প্লেসে আগে গুডমর্নিং বা থ‍্যাংক উ বলাকে ভদ্রতা বলে দেখা হয়। 

৮। ভদ্রতাকে পশ্চিমা দেশে সোশ‍্যাল ইন্টারেকশনে মূল চাবি বলে ভাবা হয়। 

৯। কনফিডেন্সকে অনেক সময় সাধুবাদ দেয়া হয় কিন্তু ব‍্যাক্তিগত অর্জনের প্রচার ‘এ‍্যারোগেন্স’ বলে ভাবা হয়। 

১০। কারো সাথে বেশি চোখাচোখি হওয়া অস্বস্তিকর হতে পারে আবার পলকে চোখ সরিয়ে নেয়া অসৎ বা রুড বলে বিবেচনা করা হয়। 

১১।  থুতু ফেলাকে খুব বাজে অভ‍্যাস বলে দেখা হয়। 

১২। পশ্চিমা দেশগুলোতে জেন্ডার ও রেসিয়াল ইস‍্যু খুব গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া গায়ের রং, শরীরের গঠন, গড়ন, গোত্র, জাত,  পাত, ধর্ম নিয়ে মন্তব‍্য করা অনেক ক্ষেত্রে অপরাধের মতো। এসব নিয়ে কৌতুক করা ভালো চোখে দেখা হয় না।

১৩। এলজিবিটিকিউ নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলো বেশ সতর্ক। এনিয়ে কেউ খারাপ মন্তব‍্য ভালো চোখে দেখা হয় না। 

১৪। বেশি বেশি অভিযোগ জানানোকে ভালো চোখে দেখা হয় না। এছাড়া ধর্মী বিষয়ের বেশি প্রচারও পছন্দ করে না পশ্চিমারা।    

Logo