কাতারে বিদেশি কর্মী নিয়োগকারী এজেন্সির জন্য নতুন বিধিমালা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১৭:১৬
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে কাতার অন্যতম বড় শ্রমবাজার। গত দুই দশকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে কাতার বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। নির্মাণশিল্প, অবকাঠামো উন্নয়ন, সেবা খাত ও গৃহস্থালি কর্মসংস্থানে লক্ষাধিক বাংলাদেশি শ্রমিক সেখানে কাজ করছেন।
তবে কাতারে বিদেশি কর্মী নিয়োগকারী এজেন্সিগুলোর জন্য নতুন বিধিমালা কার্যকর হয়েছে। নতুন নিয়মে এজেন্সির লাইসেন্স, আর্থিক জামানত, কর্মীদের আবাসন এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় জবাবদিহির বিষয়ে কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এসব শর্ত লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করতে পারবে দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়।
কাতারের সরকারি তথ্যসেবা পোর্টাল হুকুমিতে ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশটির সরকারি গেজেটে শ্রমমন্ত্রীর ৬১/২০২৬ নম্বর সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত এই সিদ্ধান্তে বিদেশ থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানের জন্য কর্মী নিয়োগকারী এজেন্সিগুলোর কার্যক্রম পরিচালনার নতুন শর্ত নির্ধারণ করা হয়। বিধিমালা ২৬ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়েছে। তবে আগে থেকে কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন শর্ত পূরণের জন্য তিন মাস সময় দেয়া হয়েছে।
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, কাতারে বিদেশি কর্মী নিয়োগের এজেন্সি পরিচালনার লাইসেন্স পেতে আবেদনকারীকে অবশ্যই কাতারের নাগরিক হতে হবে। তার বয়স হতে হবে অন্তত ২১ বছর। মানব পাচার কিংবা সততা ও বিশ্বাসভঙ্গ-সংক্রান্ত নির্দিষ্ট অপরাধে চূড়ান্তভাবে দণ্ডিত ব্যক্তিরা লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য হবেন না।
এছাড়া আবেদনকারী অন্য কোনো কর্মী নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক বা অংশীদার হতে পারবেন না। এজেন্সি পরিচালনার জন্য পৃথক ও স্থায়ী কার্যালয় এবং প্রয়োজনীয় বাণিজ্যিক লাইসেন্স থাকতে হবে। কোনো কোম্পানি এ ধরনের লাইসেন্স নিতে চাইলে সেটিকে কাতারের কোম্পানি আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। কোম্পানির সম্পূর্ণ মূলধন কাতারি নাগরিকদের মালিকানায় থাকতে হবে। পাশাপাশি একজন পূর্ণকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক নিয়োগ করতে হবে।
নতুন বিধিমালায় কর্মী নিয়োগকারী এজেন্সিগুলোর জন্য আর্থিক জামানতের শর্তও রাখা হয়েছে। বিধিমালার ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, লাইসেন্সের আবেদন অনুমোদিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে শ্রম মন্ত্রণালয়ের হিসাবে ৭ লাখ ৫০ হাজার কাতারি রিয়াল জামানত জমা দিতে হবে। জামানত জমা দেয়ার নির্দেশনা পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে অর্থ পরিশোধ করতে হবে। লাইসেন্সের পুরো মেয়াদে এই জামানত বহাল রাখতে হবে। লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়া কিংবা বাতিল হওয়ার এক বছর পার হওয়ার আগে জামানতের অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে না।
তবে এই অর্থ কেবল কর্মী নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত। বিদেশ থেকে চাকরি করতে যাওয়া কোনো কর্মীকে ব্যক্তিগতভাবে এই জামানত জমা দিতে হবে না।
নতুন নিয়মে বিদেশ থেকে নিয়োগ করা কর্মীদের জন্য উপযুক্ত আবাসনের ব্যবস্থা রাখার শর্ত দেয়া হয়েছে। এ জন্য এজেন্সিগুলোকে নির্ধারিত আবাসনস্থলের ভাড়ার চুক্তিপত্র অথবা মালিকানার প্রমাণ জমা দিতে হবে।
নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে কর্মীদের হস্তান্তর করা কিংবা প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের ফেরত পাঠানোর আগপর্যন্ত উপযুক্ত আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। শ্রম মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এসব আবাসনস্থল পরিদর্শন করে উপযুক্ততা যাচাই করবে।
এছাড়া নিয়োগসংক্রান্ত অনুমোদিত ফি, কর্মসংস্থানের শর্ত, প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় নির্ধারিত বিধান অনুসরণ করতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান এসব শর্ত লঙ্ঘন করলে আইন অনুযায়ী তার লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করা যাবে।
নতুন বিধিমালা কার্যকরের পর ৩ নভেম্বর কাতারের শ্রম মন্ত্রণালয় দুটি কর্মী নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল ও কার্যালয় বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।
প্রতিষ্ঠান দুটি হলো- Special Manpower Supply Recruitment Office এবং Riviera Manpower Supply Recruitment Office। শ্রমমন্ত্রীর পৃথক ৪৯/২০২৬ ও ৪৮/২০২৬ নম্বর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
তবে মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ঘোষণায় প্রতিষ্ঠান দুটির লাইসেন্স বাতিলের সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি। ফলে নতুন বিধিমালা লঙ্ঘনের কারণেই প্রতিষ্ঠান দুটি বন্ধ করা হয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
logo-1-1740906910.png)