যুক্তরাজ্য ২০২৭ সাল থেকে দক্ষ কর্মী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং উচ্চশিক্ষিত বিদেশি গ্র্যাজুয়েটদের জন্য ভিসানীতিতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। দেশটির ২০২৬ সালের বাজেটে ঘোষিত এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হলো উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি জনবল আকর্ষণ করা, একই সঙ্গে কম ও মধ্যম দক্ষতার অভিবাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা।
২০২৭ সালের বসন্ত থেকে স্কিলড ওয়ার্কার ভিসার ক্ষেত্রে পেশাভিত্তিক ন্যূনতম বেতন নির্ধারণের নিয়ম পরিবর্তন করা হবে। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে মধ্যম বেতন বিবেচনা করা হলেও নতুন নিয়মে তা সংশ্লিষ্ট পেশার আয়ের ২৫তম পারসেন্টাইলের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।
একই সঙ্গে সাধারণ বেতনসীমাও ২০২৬ সালের আয়ের তথ্য অনুযায়ী হালনাগাদ করা হবে। এর ফলে বিভিন্ন পেশায় ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় বেতনের কাঠামো পরিবর্তিত হতে পারে।
বর্তমানে শিক্ষার্থী, নতুন গ্র্যাজুয়েট এবং প্রশিক্ষণরত কর্মীদের জন্য আলাদা বেতন ছাড় থাকলেও ভবিষ্যতে এগুলো একীভূত করে একটি ‘নিউ এন্ট্রান্ট ডিসকাউন্ট’ চালু করা হবে। পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের জন্য বিদ্যমান বেতন ছাড়ও বাতিল করা হবে।
হাই পটেনশিয়াল ইন্ডিভিজুয়াল (HPI) ভিসার আওতা সম্প্রসারণেরও ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। বিশ্বের শীর্ষ ১৫০ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জনকারী আরো বেশি গ্র্যাজুয়েট এই ভিসার আওতায় আবেদন করতে পারবেন।
সরকারের আশা, এর মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মেধাবী তরুণরা যুক্তরাজ্যে কাজ ও বসবাসে আগ্রহী হবেন।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে গ্র্যাজুয়েট ভিসায়। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সাধারণভাবে গ্র্যাজুয়েট ভিসার মেয়াদ দুই বছর থেকে কমিয়ে ১৮ মাস করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে যেসব বিশ্ববিদ্যালয় সরকারের নির্ধারিত উচ্চ মানদণ্ড পূরণ করবে এবং শক্তিশালী কর্মসংস্থান ফলাফল প্রদর্শন করতে পারবে, সেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আবারো দুই বছরের গ্র্যাজুয়েট ভিসা সুবিধা পাবেন।
এ সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পড়াশোনা শেষে যুক্তরাজ্যে চাকরি খোঁজার সময়সীমা বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে ভিন্ন হতে পারে।
যুক্তরাজ্যে স্পন্সরড ভিসায় কর্মরত উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশিদের জন্যও একটি ইতিবাচক খবর রয়েছে।
সরকার ২০২৭ সালে এমন একটি ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে, যার মাধ্যমে চাকরি হারালে কিছু যোগ্য কর্মী সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত অতিরিক্ত সময় পাবেন নতুন নিয়োগকর্তা খুঁজে বের করার জন্য।
বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে চাকরি শেষ হওয়ার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যে দেশ ছাড়ার চাপ তৈরি হয়। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে কর্মীরা নতুন স্পন্সর খুঁজে নেওয়ার জন্য আরো বেশি সময় পাবেন।
গবেষণা ও উদ্ভাবন খাতে আন্তর্জাতিক জনবল আকর্ষণ করতে ২০২৭ সালে গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসার আওতাও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। গবেষণা ও উন্নয়নভিত্তিক আরো প্রতিষ্ঠান বিদেশি বিশেষজ্ঞ নিয়োগের সুযোগ পাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের দক্ষ পেশাজীবী, আইটি কর্মী, প্রকৌশলী, স্বাস্থ্যকর্মী এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু নতুন সুযোগ তৈরি হলেও যোগ্যতা ও প্রতিযোগিতার মান আরো বাড়বে।
logo-1-1740906910.png)