Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

থেমে নেই ফরাসি উপকূলে অভিবাসীদের ওপর পুলিশি নির্যাতন

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৯

থেমে নেই ফরাসি উপকূলে অভিবাসীদের ওপর পুলিশি নির্যাতন

ফ্রান্সের উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলের কুখ্যাত আশ্রয়শিবির ‘জঙ্গল’ গুঁড়িয়ে দেওয়ার এক দশক পূর্ণ হলেও যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থী আন্তর্জাতিক অভিবাসীদের মানবেতর জীবনযাত্রায় কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি। উচ্ছেদ ও গুঁড়িয়ে দেওয়ার ১০ বছর পর আজও ক্যালাই, ডানকার্ক ও বুলোন অঞ্চলের বিভিন্ন বনজঙ্গলে তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান করছেন চার হাজারের বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী। ব্রিটিশ ও ফরাসি সরকারের কোটি কোটি পাউন্ড ব্যয় এবং মানব পাচার প্রতিরোধে সীমান্তে কড়াকড়ির পরও যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর অদম্য ইচ্ছা নিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছেন সুদান, সোমালিয়া, ইরিত্রিয়া, ইরান ও আফগানিস্তানের হাজার হাজার শরণার্থী।

ব্রিটিশ দ্য গার্ডিয়ানের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ২০১৬ সালে ‘জঙ্গল’ ধ্বংসের পর থেকে এ পর্যন্ত দুই লাখেরও বেশি আশ্রয়প্রার্থী ছোট নৌকায় করে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন। যদিও প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা ও সীমান্ত নজরদারির কারণে ২০২৫ সালের ৪১ হাজারের তুলনায় চলতি ২০২৬ সালে এই সংখ্যা কমে প্রায় ২১ হাজারে নেমে এসেছে, তবুও সুদান ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে পালিয়ে আসা এই শরণার্থীদের চ্যানেল পারাপারের চেষ্টা কিংবা তাদের চরম সংকট কমেনি।

ফরাসি সরকার উপকূলীয় এলাকায় নতুন করে বড় কোনো অস্থায়ী ক্যাম্প গড়ে ওঠা ঠেকাতে ‘জিরো পয়েন্ট ডি ফিকসেশন’ নীতি বাস্তবায়ন করছে। এই নীতির ফলে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গড়ে প্রতি ৪৮ ঘণ্টায় একবার অভিবাসীদের বনাঞ্চলের ছোট ছোট তাঁবুগুলোতে অভিযান চালিয়ে তা গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। অভিযানে পুলিশ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের একমাত্র সম্বল তাঁবু, শীতের পোশাক ও ব্যক্তিগত জরুরি জিনিসপত্র হয় বাজেয়াপ্ত করছে, নয়তো ধ্বংস করে দিচ্ছে।

মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস অবজার্ভারস’ ফরাসি প্রশাসনের এই ধারাবাহিক উচ্ছেদ প্রক্রিয়াকে ‘সীমান্তিক মহড়া’ বা 'বর্ডার স্পেকট্যাকল’ হিসেবে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘ইউটোপিয়া ৫৬’ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে আগস্টের মধ্যে আশ্রয়ের খোঁজে থাকা মানুষদের ওপর ফরাসি পুলিশি সহিংসতার ঘটনা ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে বহু শরণার্থীকে গৃহহীন অবস্থায় খোলা আকাশের নিচে মানবেতর দিন কাটাতে হচ্ছে।

পুলিশি হয়রানির পাশাপাশি ক্যালাইয়ের ভাসমান অভিবাসীদের জন্য নতুন আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো। যুক্তরাজ্য, বেলজিয়াম ও পোল্যান্ড থেকে উগ্র ডানপন্থি উস্কানিদাতারা সরাসরি ক্যালাইয়ের বনাঞ্চলে গিয়ে আশ্রয়প্রার্থীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফরাসি কর্তৃপক্ষ অন্তত ১০ জন বিদেশি উস্কানিদাতাকে ফ্রান্সে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে বাধ্য হয়েছে।

পরিস্থিতি দিন দিন কঠিন থেকে কঠিনতর হলেও যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, আগে যেখানে একজন ব্যক্তি গড়ে তিনবার চ্যানেল পারাপারের চেষ্টা চালাতেন, বর্তমানে সেই চেষ্টার সংখ্যা বেড়ে গড়ে সাতবারে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিনের পুলিশি উচ্ছেদ, চরম ঠান্ডা আবহাওয়া এবং সীমান্ত কড়াকড়ির মুখেও ক্যালাইয়ের এই অস্থায়ী ক্যাম্পগুলো ইউরোপমুখী আন্তর্জাতিক মানব পাচার ও মানবিক সংকটের এক নির্মম বাস্তব রূপ তুলে ধরছে।

Logo