গ্রিসের দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রিট দ্বীপের উপকূলে পৃথক দুটি অভিযানে মোট ২২৬ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করেছে দেশটির কোস্টগার্ড। একই ঘটনায় মানব পাচারের অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রিক গণমাধ্যম কাথিমেরিনি এবং হেলেনিক কোস্টগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, গাভদোস দ্বীপের দক্ষিণে ৪৫ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা ২০ বছর বয়সী এক সুদানি নাগরিককে মানব পাচারকারী হিসেবে শনাক্ত করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি লিবিয়ার তোব্রুক থেকে অর্থের বিনিময়ে তাদের গ্রিসে নিয়ে আসার চেষ্টা করছিলেন।
পরে তাকে গ্রেপ্তার করে অবৈধ প্রবেশে সহায়তা, মানব পাচার এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তার একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইয়েরাপেত্রা উপকূলে আরো তিনটি নৌযান থেকে ১৮১ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করা হয়েছে। কোস্টগার্ডের অনুসন্ধান ও উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্র বিপদে থাকা নৌযানগুলোর খবর পাওয়ার পর অভিযান চালায়।
উদ্ধার করা ব্যক্তিদের মধ্যে একটি নৌযানে ৫৩ জন, দ্বিতীয়টিতে ৫১ জন এবং তৃতীয়টিতে ৭৭ জন ছিলেন। পরে তাদের নিরাপদে ইয়েরাপেত্রা বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় বন্দর কর্তৃপক্ষ পৃথক তদন্ত শুরু করেছে।
এদিকে সামোস দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দুটি গ্রিক পতাকাবাহী নৌযানের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। একটিতে জার্মানির তিন নাগরিক এবং অন্যটিতে চারজন যাত্রী ছিলেন।
সংঘর্ষে কেউ আহত না হলেও দুটি নৌযানের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সমুদ্রে দূষণের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার পর কোস্টগার্ড জরুরি উদ্ধার পরিকল্পনা কার্যকর করে এবং একাধিক টহল ও উদ্ধার নৌযান মোতায়েন করে।
পরে পালতোলা নৌযানটি মারাথোকাম্পোস বন্দরে এবং অন্য নৌযানটি প্যাটমোস বন্দরে পৌঁছায়। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সনদ জমা না দেওয়া পর্যন্ত উভয় নৌযানের চলাচল স্থগিত করা হয়েছে।
এছাড়া ৬৯ বছর বয়সী এক জার্মান ক্যাপ্টেনকে অবহেলা, নৌচলাচলে ঝুঁকি সৃষ্টি এবং সংঘর্ষ প্রতিরোধ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
logo-1-1740906910.png)