অস্ট্রেলিয়ায় চার বছরে সাড়ে ছয় লাখ ভিসা কমানোর পরিকল্পনা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১০
অস্ট্রেলিয়ায় ক্ষমতায় এলে আগামী চার বছরের মধ্যে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ অস্থায়ী ভিসাধারী কমানোর ঘোষণা দিয়েছে দেশটির প্রধান বিরোধীদলীয় জোট। বিরোধী জোটের নেতা অ্যাঙ্গাস টেইলর নতুন এই অভিবাসন নীতি প্রকাশ্যে এনেছেন।
বিরোধী জোটের তীব্র দাবি, এটি বাস্তবে কার্যকর হলে তা হবে অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অভিবাসী ছাঁটাইয়ের ঘটনা। নতুন এই প্রস্তাবিত নীতিতে বলা হয়েছে, জোট সরকার গঠন করতে পারলে প্রথম দুই বছর নিট অভিবাসন কমিয়ে বছরে এক লাখে নামিয়ে আনা হবে। এরপর সরকারের তৃতীয় বছরে এই সংখ্যা হবে এক লাখ ৩০ হাজার এবং চতুর্থ বছরে এক লাখ ৬০ হাজার। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে দেশটিতে নিট অভিবাসনের সংখ্যা ছিল তিন লাখের বেশি।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও স্নাতকদের ওপর বড় ধাক্কা বিরোধী দলের এই কড়া নীতির কারণে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ও পেশাগত সংকটে পড়বেন বিদেশি শিক্ষার্থী ও সদ্য স্নাতকেরা। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগ দেওয়া ‘অস্থায়ী স্নাতক ভিসা’ ব্যবস্থাটি পুরোপুরি বাতিলের কঠোর প্রস্তাব করেছে জোট। বর্তমানে এই ধরণের ভিসাধারীর সংখ্যা প্রায় দুই লাখ ৭১ হাজার। এটি কমিয়ে মাত্র ১০ হাজারে নামিয়ে আনার মূল লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
একই সাথে নতুন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হবে ২ লাখ ৪০ হাজারে। অধিকাংশ বিদেশি শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে তাদের পরিবারের সদস্যদের অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে আসার সব সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে। তবে গবেষণার পিএইচডি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষার্থী এবং আঞ্চলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য কিছু ব্যতিক্রম নিয়ম রাখা হয়েছে।
তাদের জন্য নতুন একটি পড়াশোনা-পরবর্তী সাময়িক ভিসা চালু রাখার সুযোগ থাকবে। ভিসা আবেদন ও প্রশাসনিক নিয়মে নতুন কড়াকড়ি প্রস্তাবিত নীতি অনুযায়ী, অস্থায়ী ভিসার দ্বিতীয় ও পরবর্তী আবেদনগুলো বাধ্যতামূলকভাবে অস্ট্রেলিয়ার বাইরে অবস্থান করে সম্পন্ন করতে হবে।
এর ফলে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত অবস্থায় নতুন ভিসার আবেদন করার সুযোগ কার্যত পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। এছাড়া অপেক্ষমাণ আবেদনকারীদের ব্রিজিং ভিসা ও অস্থায়ী আশ্রয় ভিসাধারীর সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৯৫ হাজার কমানোর জোরালো পরিকল্পনা রয়েছে।
একই সঙ্গে মানবিক ভিসার সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে ১০ হাজার করার ঘোষণা এসেছে। তবে দেশের অর্থনৈতিক দক্ষতার কথা বিবেচনা করে দক্ষ কর্মীদের অস্থায়ী ভিসা এক লাখ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুযোগ রাখা হয়েছে।
নীতি ঘোষণার সময় অ্যাঙ্গাস টেইলর জানান, অস্ট্রেলিয়া কোনো হোটেল নয়, এটি সবার স্থায়ী বাড়ি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসনবিরোধী দল ‘ওয়ান নেশন’-এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি সামলাতেই বিরোধীরা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগএমন কঠোর ঘোষণার পর সিডনিসহ পুরো অস্ট্রেলিয়াজুড়ে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। পশ্চিম সিডনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করা এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বছরের পর বছর বিপুল পরিমাণ টিউশন ফি দিয়ে পড়ালেখা করার পর যদি কাজের সুযোগটুকু না পাওয়া যায়, তবে তাদের সব বিনিয়োগ ও ক্যারিয়ার নষ্ট হয়ে যাবে।
ক্ষমতাসীন লেবার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বিরোধী জোটের এই ঘোষণাকে হঠকারী সিদ্ধান্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সরকারের পূর্বপরিকল্পনা ছিল ২০২৮ সালের মধ্যে অভিবাসন দুই লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনা। টনি বার্ক সতর্ক করে বলেন, বিরোধী প্রস্তাব কার্যকর হলে অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় বাজেটে ভয়াবহ ঘাটতি তৈরি হবে এবং দেশজুড়ে জরুরি সেবা খাতে তীব্র কর্মিসংকট দেখা দেবে। তবে এই প্রস্তাবিত নীতি কার্যকর হওয়া নির্ভর করছে ২০২৮ সালের পরবর্তী নির্বাচনে বিরোধী জোট জয়ী হওয়ার ওপর।
logo-1-1740906910.png)