অস্ট্রেলিয়ার নতুন অভিবাসন নীতি; চরম সংকটে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৬
অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় রাজনীতিতে এখন প্রধান আলোচনার মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে নতুন অভিবাসন নীতি এবং এতে বড় ধরনের কাটছাঁটের ঘোষণা। তবে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাবিত এসব অভিবাসন নীতি নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অস্ট্রেলিয়ার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন কাউন্সিল অব স্মল বিজনেস অর্গানাইজেশনস অস্ট্রেলিয়া (কসবোয়া)। সংগঠনটির জোরালো দাবি, রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলে নজর না দিয়ে অভিবাসন নীতি তৈরি করা উচিত দেশের মূল শ্রমবাজার ও বাস্তব অর্থনীতির চাহিদাকে বিবেচনায় রেখে।
কসবোয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) স্কাই ক্যাপুচিও সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জানান, দেশটির রাজনৈতিক দলগুলোর দেয়া অভিবাসন কমানোর কৌশল ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতের জন্য চরম ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বর্তমানে দেশটির ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি, বিরোধী কোয়ালিশন জোট এবং ওয়ান নেশন; এই তিনটি প্রধান রাজনৈতিক দলই নিজেদের মতো করে নতুন অভিবাসন রূপরেখা উন্মোচন করেছে। তবে প্রতিটি দলের প্রস্তাবেই এমন কিছু জটিল নিয়ম রয়েছে, যা স্থানীয় ছোট ব্যবসা ও অর্থনীতিকে বিপদে ফেলবে।
সংগঠনটির মতে, স্রেফ নতুন আসা অভিবাসীদের মোট সংখ্যা কত কমানো হলো, কেবল সেই অঙ্কের খেলায় রাজনৈতিক দলগুলোর মেতে থাকা উচিত নয়। বরং এর বদলে অভিবাসনের মৌলিক নীতিতে ফিরে আসা এখন সময়ের দাবি। দেশটির ব্যবসা সচল রাখতে ঠিক কোন কোন খাতে এবং কোন কোন সুনির্দিষ্ট দক্ষতায় প্রার্থীর তীব্র সংকট রয়েছে, তা নিরপেক্ষভাবে চিহ্নিত করা অত্যন্ত প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় কর্মী পাওয়ার সুনির্দিষ্ট পথ না থাকলে অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।
স্কাই ক্যাপুচিও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, ছোট ছোট ব্যবসার গতি সচল রাখতে কেবল উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন পেশাজীবীই যথেষ্ট নন। এর পাশাপাশি ব্যবসাগুলোর দৈনন্দিন কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে নিতে মাঠপর্যায়ের অপরিহার্য কর্মী দরকার হয়। বিশেষ করে দেশটির আতিথেয়তা (হসপিটালিটি), পর্যটন, কৃষি এবং স্থানীয় অন্যান্য সেবা খাতগুলোতে বিদেশ থেকে আসা কর্মীদের ওপর দারুণভাবে নির্ভর করতে হয়। তাই রাজনৈতিক সস্তা স্লোগান দিয়ে এসব খাতের বাস্তব চাহিদাকে উপেক্ষা করা কোনোভাবেই সমীচীন হবে না।
তবে অভিবাসন নীতির বিষয়ে বিরোধী দলীয় কোয়ালিশন জোটের কিছু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রশংসাও করেছে কসবোয়া। বিরোধী দল ক্ষমতায় এলে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বছরের 'ওয়ার্কিং হলিডে মেকার' ভিসার আবেদনের ওপর আরোপিত সীমা এবং লটারি পদ্ধতি বাতিলের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তাকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানানো হয়েছে। কসবোয়ার মতে, এই সিদ্ধান্তটি কার্যকর হলে প্রান্তিক ও আঞ্চলিক এলাকার ছোট ব্যবসায়ীরা শ্রমসংকট থেকে কিছুটা স্বস্তি পাবেন।
আঞ্চলিক এলাকার রেস্তোরাঁ, হোটেল ও খামারগুলো সচল রাখতে এই ধরনের স্বল্পমেয়াদি ভিসাধারী তরুণদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দূরবর্তী অঞ্চলের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী সময়মতো কর্মী পান, তা নিশ্চিত করতে ভিসা বাড়ানোর একটি সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট সুযোগ থাকা প্রয়োজন। এর ফলে অস্ট্রেলিয়ায় আসা আন্তর্জাতিক তরুণরা প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে এবং দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে উৎসাহ পাবেন।
একই সাথে কেবল নির্দিষ্ট কিছু উচ্চমানের দক্ষতায় জোর দেয়ার প্রবণতারও সমালোচনা করেছে কসবোয়া। সংগঠনটি জানায়, বাস্তবক্ষেত্রে দেশের আনাচে-কানাচে গড়ে ওঠা হাজারো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এমন সব দক্ষ কর্মী খোঁজেন, যা সরকারের তৈরি অগ্রাধিকার তালিকার সাথে পুরোপুরি মেলে না। উদাহরণস্বরূপ, আঞ্চলিক এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় একজন দক্ষ শেফের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন থাকলেও সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় নাম না থাকায় তারা কর্মী নিয়োগ করতে পারেন না।
এমন পরিস্থিতিতে সাময়িক রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতির হিসাব ভুলে তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিতে একটি নিরপেক্ষ 'জাতীয় অভিবাসন সম্মেলন' (ন্যাশনাল মাইগ্রেশন সামিট) আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে কসবোয়া। সংগঠনটির স্পষ্ট দাবি, অস্ট্রেলিয়ার ভবিষ্যৎ অভিবাসন কৌশল নির্ধারণের যে কোনো জাতীয় আলোচনায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মতামত নেয়ার জন্য প্রতিনিধি রাখা বাধ্যতামূলক করতে হবে। কারণ কেবল উপাত্তের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিলেই দেশের শ্রমবাজার ও অর্থনীতি ভারসাম্য রক্ষা করতে পারবে।
logo-1-1740906910.png)