সেউটায় অভিবাসী শিবির উচ্ছেদ, মরক্কোতে ফিরছেন শত শত মানুষ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৬
উত্তর আফ্রিকায় স্পেনের ছিটমহল সেউটার ট্রাম্পোলিন সৈকতে গড়ে ওঠা বিশাল অভিবাসী শিবির উচ্ছেদে বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। রোববার শুরু হওয়া এই অভিযান সোমবারও অব্যাহত ছিল।
স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফেলিপে ও রানি লেতিজিয়ার সেউটা সফরের মাত্র এক সপ্তাহ আগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ধারণা, ট্রাম্পোলিন সৈকতের ওই শিবিরে প্রায় ৩ হাজার অভিবাসী অবস্থান করছিলেন।
জুলাইয়ের শেষ দিকে মরক্কো থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ সেউটায় প্রবেশ করার পর এই শিবিরটি দ্রুত শহরের সবচেয়ে বড় অনিয়মিত অভিবাসী বসতিতে পরিণত হয়। কাঠ, প্লাস্টিক ও ত্রিপল দিয়ে তৈরি অস্থায়ী আশ্রয়ে তারা বসবাস করছিলেন। প্রতিদিন রেড ক্রস তাদের খাদ্য সহায়তা দিত।
স্পেনের সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল থেকেই ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। প্রায় ৫০টি ভ্যান, দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের যান এবং সামরিক বাহিনীর গাড়ি মোতায়েন করে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয়।
এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শিবিরটিকে কয়েকটি অংশে ভাগ করে ধাপে ধাপে অভিবাসীদের সরিয়ে নিতে শুরু করে। প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে অভিযান চলে। এ সময় কয়েকজন অভিবাসী সাঁতরে এলাকা ছাড়ারও চেষ্টা করেন।
উচ্ছেদ হওয়া অভিবাসীদের সামনে দুটি বিকল্প রাখা হয়। তারা চাইলে নিজেদের পরিচয় দিয়ে সেউটার বিদেশি আটক কেন্দ্র বা সিএটিইতে নিবন্ধন করতে পারেন। সেক্ষেত্রে তাদের সরকারি তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন আবাসনকেন্দ্রে রাখা হবে। অন্যদিকে পরিচয় নিবন্ধন না করে সরাসরি মরক্কোয় ফিরে যাওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪ অক্টোবর বিকেল পর্যন্ত অন্তত ৬০০ জন অভিবাসী দ্বিতীয় পথটি বেছে নিয়েছেন এবং কোনো আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন ছাড়াই মরক্কোয় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, অনেক অভিবাসী নিজেদের পরিচয় দিতে অনাগ্রহী। কারণ নিবন্ধন প্রক্রিয়া ভবিষ্যতে বহিষ্কারের আনুষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন মরক্কোকে একটি ‘নিরাপদ দেশ’ হিসেবে বিবেচনা করে। ফলে বিশেষ পরিস্থিতি না থাকলে সেখানে ফিরে যাওয়া ব্যক্তিদের আশ্রয় পাওয়ার সুযোগ সীমিত।
৫ অক্টোবরও সৈকতের আশপাশের এলাকায় অভিযান চলতে থাকে। স্থানীয় পুলিশ পুরো এলাকা ঘিরে রাখে এবং যানবাহন চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, আগের দিনের অভিযান দেখে অনেক অভিবাসী আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় পালিয়ে যান। তারা আটক কেন্দ্র কিংবা বহিষ্কার প্রক্রিয়া এড়ানোর চেষ্টা করছেন।
এদিকে অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসীদের ক্ষেত্রে আলাদা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাদের থানায় নিয়ে নিবন্ধন করার পর বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে। ইউরোপীয় আইনের কারণে ১৮ বছরের কম বয়সী অভিবাসীদের সাধারণ বহিষ্কার প্রক্রিয়ার আওতায় পাঠানো যায় না।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ট্রাম্পোলিন শিবির পুরোপুরি উচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত আগামী কয়েক দিন অভিযান চলবে।
logo-1-1740906910.png)