Logo
×

Follow Us

এশিয়া

ভিসা থাকলেও ভারতে প্রবেশ নিশ্চিত নয়: দিল্লি হাইকোর্ট

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৪

ভিসা থাকলেও ভারতে প্রবেশ নিশ্চিত নয়: দিল্লি হাইকোর্ট

ভারতে প্রবেশের জন্য বৈধ ভিসা থাকলেই কোনো বিদেশি নাগরিকের দেশটিতে ঢোকার নিশ্চয়তা তৈরি হয় না বলে গুরুত্বপূর্ণ এক রায়ে মন্তব্য করেছে দিল্লি হাইকোর্ট। তুর্কমেনিস্তানের এক নারী নাগরিকের করা মামলার শুনানিতে এ রায় দেন বিচারপতি অমিত মহাজন। আদালত বলেন, ভিসা থাকা আর সীমান্তে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া দুটি আলাদা প্রশাসনিক বিষয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা, জনশৃঙ্খলা, জনস্বাস্থ্য কিংবা অন্য দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের স্বার্থে বৈধ ভিসাধারী কোনো বিদেশিকেও ভারতে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার ক্ষমতা সরকারের রয়েছে।

মামলাটি করেছিলেন তুর্কমেনিস্তানের নাগরিক আন্নাগুরবানোভা ইয়াজবিবি। তার অভিযোগ ছিল, বৈধ পাসপোর্ট ও ব্যবসায়িক ভিসা থাকা সত্ত্বেও চলতি বছরের ২৫ মার্চ দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে ভারতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। পরে তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

তবে একই বিমানে থাকা তার স্বামীকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। ঘটনার পর তিনি দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন করে জানতে চান, কেন তাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে তার বৈধ ব্যবসায়িক ভিসার ভিত্তিতে ভারতে প্রবেশের সুযোগও চেয়েছিলেন।

শুনানিতে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়, কোনো বিদেশি নাগরিকের কাছে বৈধ ভিসা থাকলেই তিনি ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশের আইনগত বা বলবৎযোগ্য অধিকার অর্জন করেন না।

সরকারের আইনজীবীরা বলেন, ভিসা প্রদানের পরও সীমান্তে অভিবাসন কর্মকর্তারা পাসপোর্ট, ভ্রমণ নথি, ভিসা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাই করতে পারেন। প্রয়োজন মনে করলে অতিরিক্ত তথ্যও চাইতে পারেন।

সরকার আদালতকে আরও জানায়, সংশ্লিষ্ট নারীর বিষয়ে কিছু নেতিবাচক তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ মনে করেছে, তাকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া সমীচীন হবে না।

জাতীয় নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলেও আদালতকে জানানো হয়। মামলার নথি পর্যালোচনায় আদালত তার ভ্রমণ ইতিহাসেও অসঙ্গতি খুঁজে পায়। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ওই নারী ৪৭ বার ভারত সফর করেছিলেন। বেশির ভাগ সফরের মেয়াদ ছিল মাত্র এক থেকে তিন দিন।

তিনি ব্যবসায়িক ও চিকিৎসা ভিসা ব্যবহার করে এসব সফর করেছিলেন বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়।

আদালত আরও লক্ষ্য করে, তার বাবা-মা ও স্বামীর পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যের মধ্যে অসামঞ্জস্য ছিল। এছাড়া ভারতে ব্যবসার উদ্দেশ্যে আসার দাবি করলেও তার কাছে কোনো ব্যবসায়িক পরিচয়পত্র, আমন্ত্রণপত্র বা সংশ্লিষ্ট নথি পাওয়া যায়নি।

নিজ দেশের ব্যবসা সম্পর্কেও তিনি পর্যাপ্ত তথ্য দিতে সক্ষম হননি বলে আদালত পর্যবেক্ষণ করে। শুনানিতে আরও উঠে আসে, ব্যবসায়িক ভিসা নিয়ে ভ্রমণ করলেও তিনি নিজেকে ‘গৃহিণী’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আদালত তার আবেদন খারিজ করে দেয়। রায়ে বলা হয়, উপস্থাপিত তথ্য, নথিপত্র এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় আবেদনকারীর দাবি গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয়নি। ফলে তাকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার কোনো আইনি ভিত্তি আদালত খুঁজে পায়নি।

Logo